গেইল, স্যামুয়েলস, নারিনই চ্যালেঞ্জ টাইগারদের

0
63
gail,West Indies

gail,West Indiesভারতের বিরাট কোহলি বলেছিলেন, ক্রিস গেইল টি-২০’র সেরা খেলোয়াড়। গেইলের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং যে কোনো দলকেই ডুবিয়ে দিতে পারে যে কোনো সময়। ক্যারিবিয়ানদের বিধ্বংসী এ ব্যাটসম্যানের পাশাপাশি স্যামুয়েলস এবং ব্রাভো আজ স্বাগতিকদের বিপক্ষে জ্বলে উঠতে পারে মিরপুরের মাঠে। চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে জিয়া, মাশরাফি, আল আমিনের। এমনকি হতাশ করতে পারে সাকিব, রাজ্জাককেও। তাই আজকের ম্যাচ জিততে হলে মুশফিক বাহিনীর অবশ্যই আলাদা করে নজর রাখতে হবে এদের উপর।

ক্রিস গেইল অতীতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো করতে না পারলেও বিপিএলের ফর্ম বলে দেয় ভয় থেকে যাচ্ছে তাকে নিয়ে। এছাড়া ২০১২ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে ৫৬ বলে ৭৮ রান করে এই গেইলই ওয়েস্টইন্ডিজ চ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্য করেছিল। তাই আজকের ম্যাচের শুরুতেই ঠেকাতে হবে তার ব্যাটিং ঝড়।

চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্টইন্ডিজের আরেক বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান মারলন স্যামুয়েলস। ঝড় তুলতে পারে তার ব্যাটও। গত বিশ্বকাপে তার ব্যাটিং নৈপুন্যে শিরোপা ঘরে তুলেছিল ক্যারিবিয়ানরা। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মারলন স্যামুয়েলস গত বছর ওয়েস্টইন্ডিজের বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া সেরা ওয়ানডে খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছেন তিনি। ব্যাট হাতে স্যামুয়েলস উইকেট ধরে রাখার পাশাপাশি যে কোন দলের উপরই আক্রমনাত্নক হয়ে উঠতে পারে। তাই আলাদা করে ভাবতে হবে তাকে নিয়েও।

এছাড়া ব্রাভোকে হেলাফেলা করলে চলবে না। ক্যারিবিয়দের এই তুরুপের তাসটি সঠিক সময়ে তার ঝলসানো ব্যাটিং দিয়ে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

আজকের ম্যাচের পরিণতি নির্ভর করবে টাইগার দলের ব্যাটসম্যানদের উপর। ক্যারিবিয় বোলিং-টা একটু দেখে খেললেই জয়ের দেখা মিলবে। তামিম, আনামুল, সাকিব, মুশফিককে নারিনের কথা ভুলে গেলে চলেব না। টোয়েন্টি২০ ক্রিকেটের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া ক্যারিবিয় স্পিনার সুনীল নারিন। তার নামের পাশে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের উইকেট শিকারি কথাটি লেগে আছে। গত বিশ্বকাপে ১৬ টি উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি।

তবে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান কোনো দিক থেকে কম নয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের তুলনায়। টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজ জয়সহ টি-টোয়েন্টিতে সমান জয় নিয়ে মনোবলে তুঙ্গে রয়েছে টাইগাররা। সাকিব বরাবরই ভালো খেলে আসছে এই ক্যারিবিয়ানদের সাথে। এছাড়া ক্রিস গেইলের জন্য আতঙ্ক সোহাগ গাজীকে আজ মাঠে নামাতে পারে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সাথে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলাগুলোতে সোহাগ গাজীর কাছে বরাবরই ধরাশয়ী হয়েছে গেইলসহ তাদের বড় বড় ব্যাটসম্যানরা।

টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান ১৭৯। ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেয়া ১৯৮ রান তাড়া করতে নেমে ১৭৯ রান তুলে টাইগাররা। সে ম্যাচে তামিম ইকবাল  ৮৮ ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৬৪ রান করেন। এদিকে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশকে হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের ফর্মে ফিরতে চাইবে। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের ধারায় ফেরা ততটা সহজ হবে না। একটু দেখে খেললেই জয়ের দেখা পেয়ে যেতে টাইইগাররা।

এইউ নয়ন