অগ্রগতি জানাতে ১৪ দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বসছে বিজিএমইএ

0
49

ranaplazaরানা প্লাজা ধসের পর শ্রমিকের নিরাপত্তা ও কারখানার পরিবেশ উন্নয়নে পোশাক মালিকরা কি পদক্ষেপ নিয়েছে তার জানাতে ১৪টি দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বসছে বিজিএমইএ। আগামি ১০ এপ্রিল এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। বিজিএমইএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনের সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজীম বলেন,  রানা প্লাজা দূর্ঘটনার পর অনেকগুলো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১০ এপ্রিল ইউরোপ ও আমেরিকার ১৪টি দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বসে তাদের কাছে সেগুলোই তুলে ধরা হবে।

তিনি আরও জানান, হতাহত শ্রমিকদের জন্য আমরা কি করেছি, তারা ক্ষতি পূরণ হিসেবে কি পেয়েছে, সব পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

বৈঠকে বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রণালয়ের সচিবরা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া রাষ্ট্রদূতদের ওই বৈঠকে বিজিএমইএর উপদেষ্টা পর্ষদ ও ক্রেতাদের সংগঠন বায়ার্স ফোরামের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। যে বৈঠকটি বিজিএমএ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে বিজিএমইএ বলছে, রানা প্লাজা দসের পর সংগঠনটি বহু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। রানা প্লাজা ধসের পর পাঁচ কারখানার শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৫০ জনকে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হয়েছে।

হতাহত শ্রমিকদের জন্য গঠিত প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা তহবিলে ২ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। রানা প্লাজায় আহত ১২ জন প্রসূতি মায়ের প্রত্যেককে ৩৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

অঙ্গ হারানো ২৬ শ্রমিককে ব্র্যাক, সিআরপি, সিডিডি ও হোপ বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে কৃত্রিম অঙ্গ লাগানোর ব্যবস্থা করেছে।

রানা প্লাজার হতাহত পাঁচ কারখানার চাকরি হারানো শ্রমিকদের বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে নতুন চাকরি দিতে বিজিএমইএ রাজি হয়েছে।

বিজিএমইএ মিড লেভেল ম্যানেজমেন্ট ও সুপারভাইজারদের অগ্নি নিরাপত্তায় ‘ক্যাশ কোর্স’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ করেছে। যেখানে ১৪০০ কারখানার মিড লেভেল ম্যানেজমেন্ট ও সুপারভাইজাররা অংশ নিয়েছে।

এছাড়া কম্প্লায়েন্স ইস্যুতে কারখানাগুলোর অগ্নি, বিদ্যুৎ ও ভবন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে  পরিদর্শন হচ্ছে। যেখানে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলি) সমন্বয়ে বুয়েট, অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স ও মালিকরা কাজ করছে।

তাছাড়া আইএলও পর্যবেক্ষণে কারখানাগুলোর নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া ত্রিপক্ষীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অগ্নি, বিদ্যুৎ ও ভবন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিল্ডিং অ্যান্ড ফায়ার সেফটি মেলাকে আরও একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সংগঠনটি।

সংগঠনটি আরও বলছে, রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এখন পর্যন্ত ১৪ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা অর্থায়ন করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে, চিকিৎসা বাবদ ৩ কোটি ৮০ লাখ, বেতন-ভাতা বাবদ ৭ কোটি ৬০ লাখ, প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ২ কোটি, প্রসুতি মায়ের জন্য ৪ লাখ ২০ হাজার, পুন:বাসন বাবদ ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থায়ন হয়েছে। আর বৈঠকে এই সব বিষয় তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।