উচ্চ আদালত মেনে নিলো ট্রাম্পের ‘মুসলিম ব্যান’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

0
72
ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। ছবি সংগ্রহ।

মুসলিম দেশগুলোর ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত। এখন থেকে ৬টি মুসলিম দেশের নাগরিকরা ঢুকতে পারবেন না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।

তবে এ বিষয়ে নিম্ন আদালত থেকে আইনি বৈধতা আসার শর্ত রয়েছে। ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ওই ৬টি মুসলিম দেশ হলো চাদ, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেন। বেশিরভাগ মুসলিম দেশের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা হওয়ায় একে ‘মুসলিম ব্যান’ বলা হয়ে আসছে।

বিবিসি নিউজের সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার আপিল বিভাগের ৯ জন বিচারকের মধ্যে ৭ জন একমত হন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৬টি মুসলিম দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে সর্বশেষ যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, তা বহাল থাকবে। তবে নিম্ন আদালতের দেওয়া নির্দেশনার আইনি সুরাহা হয়ে আসতে হবে।

মুসলিম দেশগুলোর ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত। ছবি সংগ্রহ।

এ সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়টির বৈধতা নিয়ে শুনানি হবে সানফ্রান্সিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া, রিচমন্ড এবং ভার্জিনিয়ার ফেডারেল কোর্টে। অবশ্য এর আগেই উত্তর কোরিয়া এবং ভেনিজুয়েলার ওপর জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নিম্ন আদালত অনুমোদন দিয়েছিল।

আসার পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন ৭টি মুসলিম প্রধান দেশের ওপর ৯০ দিনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকে বলে আসছেন ইসলামিক সন্ত্রাসীদের থেকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য এধরণের নিষেধাজ্ঞা জরুরি।

নির্বাচনী প্রচারণার সময়ই ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষ আলোচনায় আসে। সেসময়ই ট্রাম্প ‘যুক্তরাষ্ট্রে সম্পূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা’ জারির প্রতিশ্রুতি দেন। গত সপ্তাহেও ট্রাম্প তার টুইটার একাউন্টে মুসলিম বিরোধী ভিডিও পোস্ট করেন।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়কে ট্রাম্পের বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ছবি: এপি।

গত জানুয়ারি থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কয়েক দফা বিভিন্ন মার্কিন আদালতে আবেদন জানালেও সেগুলো খারিজ হয়। তবে সুপ্রিম কোর্ট তা আংশিক কার্যকরে সম্মত হয়েছিল। সর্বশেষ আবেদন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন বলেছিল, পূর্বের আদেশ থেকে সাম্প্রতিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আদেশ ভিন্ন।আদেশগুলো জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতির ভিত্তিতে আলাদা করা হয়েছে। এই নীতির সঙ্গে ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের আইনজীবী ওমর জাদওয়াত রয়টার্সকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মুসলিম বিরোধী মনোভাব এখন আর গোপন নেই। তিনি ক্রমাগতই তা নিশ্চিত করে আসছেন।

একই সঙ্গে শরণার্থীদের প্রবেশে বাধা দিয়ে নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়। পরবর্তীতে প্রতিবাদের মুখে তা নিম্ন আদালত থেকে আইনি বাধার মুখে পরে। নির্বাহী আদেশটি দুই দফা পরিবর্তনের পর সেপ্টেম্বরে উত্তর কোরিয়া ও ভেনিজুয়েলার ওপর একইরকম নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় হোয়াইট হাউজ থেকে।

এই নিষেধাজ্ঞায় সবচেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে আসা মুসলিম প্রধান দেশের শিক্ষার্থীরা। সাম্প্রতিক সময়ে নানা বিষয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত কার্যকলাপের মধ্যে এ রায়কে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বিজয় বলেই মনে করা হচ্ছে।

অর্থসূচক/এসবিটি