হরতাল-অবরোধে ধ্বংস হচ্ছে পোলট্রিশিল্প, উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা

0
43

POLTRI_11.12.13_Dominicহরতাল-অবরোধের কারণে একদিনের বাচ্চা-মুরগি ও ফিড সরবরাহকারী গাড়ি ভাংচুরের শিকার হচ্ছে। মুরগির বাচ্চা আগুনে দগ্ধ হচ্ছে। রাস্তায় আটকে মারা যাচ্ছে অসংখ্য মুরগি। অন্যদিকে প্রতিদিন বিক্রি করতে না পারায় প্রতি সপ্তাহে ১৪ থেকে ২০ লাখ বাচ্চা মেরে ফেলা হচ্ছে। এ জন্য পোলট্রিশিল্প রক্ষা করতে সরকার ও বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান জানান পোলট্রি ব্যবসায়ী নেতারা।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ পোলট্রি ইণ্ডাস্ট্রিজ কো-অর্ডিনেশন কমিটি আয়োজিত মিট দ্য প্রেসে “পোলট্রিশিল্প রক্ষায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন এখনই” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সভার আহব্বায়ক ও ব্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মশিউর রহমান বলেন, হরতাল অবরোধের কারণে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ মুরগির চাহিদা কমে গেছে। যার জন্য ১ হাজার কোটি টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে ডিম উৎপাদিত হয় প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ এবং  যা সপ্তাহে ১০ কোটি ৫০ লাখ পিস। হরতাল-অবরোধের কারণে এর ৩০ শতাংশ ডিম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ ৩ কোটি ১৫ লাখ পিস ডিম ডার উৎপাদন খরচ প্রায় ২০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

তিনি বলেন, কমার্শিয়াল ব্রয়লার মুরগির মাসিক উৎপাদন প্রায়৬০ হাজার মেট্রিক টন। তিন মাসে ১৮০ হাজার মেট্রিক টন। এতে মোট লোকসানের পরিমান ৯৭৫ কোটি টাকা।

এফবিসিসিআইয়ের সহ সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশর  ১৬ কোটি মানুষের চাহিদা পূরণ করে এ বড় শিল্পটি আজ শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ধ্বংসের মুখে। আমরা সবার সাহায্য চাই এ শিল্পকে বাঁচানোর জন্য।

ওয়াপসা বিবি এর কোষাধ্যক্ষ ড.নজরুল ইসলাম বলেন, হরতাল-অবরোধের জন্য ঠিক সময় যথা স্থানে মুরগির বাচ্চা সরবরাহ করতে না পারায় মুরগির বাচ্চা মেরে ফেলতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব পরিবহন ভাংচুর ও আগুন দেওয়ার কারণে ভ্যাকসিন ও মুরগির খাবার পৌছাতে পারছি না।

তিনি বলেন, এ কারণে আমরা এ পর্যন্ত ১৭০ কোটি টাকার লোকসান গুণছি। ব্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনন অব বাংলাদেশের মহাসচিব সাইদুর রহমান বাবু বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য আমরা আজ পথে বসতে শুরু করছি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, ওয়াল্ড পোলট্রি সাইন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ ব্রাঞ্চের সেক্রেটারি মো.রফিকুল হক, ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের ফজলে রহিম খান (সাহরিয়ার), ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের কোষাধ্যক্ষ নাজমুল আহসান খালেদ প্রমুখ।