কমেছে দাম, অবিক্রিত চা বিক্রিতে বাড়তি নিলামের ডাক

0
110

teaচা বাগান মালিকদের ক্ষতি কমাতে এবার বাড়তি নিলামের ডাক দিয়েছে চা বোর্ড। জানা গেছে অবিক্রিত চা বিক্রির জন্য আগামি মাসে দুইটি নিলাম ডেকেছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে আগামি ২২ ও ২৯ এপ্রিল বাড়তি এ দুইটি নিলাম তোলা হবে।

প্রসঙ্গত দেশে চায়ের নিলাম বছরে ৪৭ দিন (প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার) তোলা হয়। তবে এবছর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও  রপ্তানি কমে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় অবিক্রিত  থেকে গেছে ১ মিলিয়ন কেজির অধিক চা পাতা। তাই বাগান মালিক ও চা শিল্পের সাথে জড়িতদের স্বার্থে আরও দুটি নিলাম তোলার সিন্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ চা বোর্ড ।

চা বোর্ড সূত্রটি জানিয়েছে এবছর প্রতি নিলামে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ চা অবিক্রিত থেকেছে।
আর  এই অবিক্রিত চায়ের থেকে বাগান মালিকদের যে লোকসানের  আশংকা  তা কমানোর জন্য এমন উদ্যোগ নিয়েছে চা বোর্ড।

প্রতিবেশী দেশগুলোতে চা উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়া ও বাংলদেশে আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেওয়ার ফলে রপ্তানি কমে আমদানি বেড়ে গেছে । পাশাপাশি এ সময়টিতে দেশীয় চায়ের গুণগত মান কমে যাওয়ায় অবিক্রিত চা বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা ।

চা বেচাকেনায় মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যে দেখা যায়, সাধারণত প্রতি নিলামে গড়ে ২০-৩০ শতাংশ চা অবিক্রীত থাকে, যা পরের নিলামে তোলা হয়। তবে এখন অবিক্রীত চায়ের পরিমাণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গত সাতটি নিলামের প্রতিটিতে যে পরিমাণ চা বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে, তার সিংহভাগই অবিক্রীত রয়ে গেছে।

বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান সাফওয়ান চৌধুরী অর্থসূচককে বলেন,চলতি  বাজেটে আমদানি শুল্ক ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার পর থেকে দেশে চায়ের আমদানি বাড়তে থাকে। কমতে থাকে দেশীয় চায়ের দাম। যেখানে চায়ের উৎপাদন খরচ পড়ে প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা সেখানে মান ভেদে বিভিন্ন বাগানের চা পাতা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি জানান, চট্টগ্রামের নিলাম বাজারে বাকি নিলামগুলোতে সব বাগানের চা পুরোপুরিভাবে বিক্রি হবে না। ফলে এ বছর প্রায় ১ মিলিয়ন কেজির অধিক চা পাতা অবিক্রিত থেকে যাবে ।

এদিকে জানা গেছে ৪১ তম নিলামে চা বিক্রি হয়েছে গড়ে কেজি প্রতি ১২৯ টাকা ৪৬ পয়সায়। ৪০ তম নিলামে বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকা ০২ পয়সা। ৩৯ তম নিলামে কেজি প্রতি চায়ের দাম ১৪৩ টাকা ৭২ পয়সা। ৩৮ তম নিলামে  বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকা ৭৬ পয়সা দরে, ৩৭ তম নিলামে ১৭৭.২৯ টাকা এবং ৩৬ তম নিলামে চায়ের দাম ছিল গড়ে ১৮৯ টাকা ৩২ পয়সা দরে।

এই হিসাবে দেখা যায় সাত নিলামের ব্যবধানে চায়ের দাম কমেছে প্রতিকেজি ৫৩  টাকা ৩৭ পয়সা। অথচ গেল অর্থবছরে (২০১২-১৩) নিলাম বর্ষের একই সময়ে নিলামে চায়ের দাম ছিল কেজি প্রতি ২৭৩ থেকে ২৮৯ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ চলতি নিলাম বর্ষের এ সময়ে পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে কেজি প্রতি চায়ের দাম কমেছে গড়ে ১১২ টাকারও বেশী।

তবে বাড়তি দুই টি নিলামের ফলে  চা উৎপাদনের সাথে জড়িতরা কিছুটা সুফল পেলেও আমদানি শুল্ক না বাড়ালে এ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সাফওয়ান চৌধুরী।