দেশীয় কন্ট্রাকটরের মাধ্যমে সমুদ্রের তেল-গ্যাস উত্তোলনের আহ্বান’

0
69

আনু মুহাম্মদবিদেশিদের হাতে না দিয়ে দেশিয় কন্ট্রাকটর নিয়োগের মাধ্যমে সমুদ্রের তেল-গ্যাস উত্তোলণের আহ্বান জানিয়েছেন তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘সর্বনাশা রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল কর, সুন্দরবন বাঁচাও ও সমুদ্রের গ্যাস লুণ্ঠন ও পাচারের চুক্তি মানি না’ শীর্ষক এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘পিএসসি ২০১২’ অনুযায়ী সরকার ভারতের ও এনজিসির হাতে বঙ্গোপসাগরের এসএস-৪ ও এসএস-৯ নামে চিহ্নিত ১৪ হাজার বর্গ কি.মি. এলাকার দুইটি গ্যাস ব্লক তুলে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সংশোধিত পিএসসিতে বাংলাদেশ যে দামে গ্যাস কিনবে তার দাম আগের তুলনায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। প্রতিবছর গ্যাসের দাম বাড়ানোর অপশন রাখা হয়েছে। এসব সম্পদে বিদেশিদের অংশীদারিত্ব ৫০ ভাগ থেকে বাড়িয়ে ৭০ ভাগ করা হয়েছে।

দেশের মুনাফাভোগীদের সুবিধার্থেই এসব সংশোধনী আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকার দেশকে লুটেরাদের হাতে তুলে দিচ্ছে। আর এই লুটেরাদের হাত থেকে আমাদের জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় সঙ্গীতকে রক্ষা করতে হবে।

আগের সরকার যে পথে হেঁটেছে বর্তমান সরকারও সেই পথে হাঁটছে। তারা জনগণের পকেট কেটে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত। বর্তমানে এমন পরিস্থিতি হয়েছে যে জনগণকে রাস্তায় সাইকেল চালাতে গেলেও চাঁদা দিতে হবে তাদেরকে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও জানান, সরকার সুন্দরবন ধ্বংসকারী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করার জন্য তড়িঘড়ি করছে। আর এই দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের ভূমি দখলের মহোৎসব চলছে। সুন্দরবন আমাদের আইলা-সিডরের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচায়। কিন্তু রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবন এলাকায় প্রাকৃতিক ভারসাম্যের অনেক ক্ষতি হবে। এসব এলাকায় শব্দ দূষণ, নদী দূষণ, বায়ু দূষণ সবই সংগঠিত হবে।

সমাবেশ থেকে সংগঠনটি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ঠেকাতে আগামি ২৬ মার্চ জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ দেশের সকল শহীদ মিনারে জাতীয় সম্পদে জাতীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠায় গণশপথ ও ২৭ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশব্যাপী সফর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।

মানবন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা জাহাঙ্গীর আলম, সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি প্রমুখ।

মানব্বন্ধন শেষে প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

জেইউ/