অক্টোবরে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেছে প্রায় ৮১ কোটি টাকা
শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

অক্টোবরে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেছে প্রায় ৮১ কোটি টাকা

Savings_Certificateসেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবর মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ অনেক কমেছে। অক্টোবরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৬০১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আর সেপ্টেম্বরে বিক্রি হয়েছিল ৬৮২ কোটি ২১ লাখ টাকা। অক্টোবরে মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে ৮০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম চার (জুলাই-অক্টোবর) মাসে বিক্রিত সঞ্চয়পত্রের পরিমাণ গত অর্থবছরের পুরো সময়ের (১২ মাস) তিন গুণেরও বেশি। গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৭৭২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আর অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৬৯৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছরে ৪৭৯ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল।

জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাজেট ঘাটতি মেটাতে গত অর্থবছর সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল। বিক্রি কম হওয়ায় পরে সেই লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। তবে সে লক্ষ্যও পূরণ হয়নি।

জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তরের হালনাগাদ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুলাই-অক্টোবর সময়ে যেসব সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে তার ৮০ শতাংশই পরিবার সঞ্চয়পত্র। ১৫ শতাংশ পেনশনার সঞ্চয়পত্র। বাকি ৫ শতাংশ অন্যান্য সঞ্চয়পত্র।

পরিদপ্তর সূত্র জানায়, একটি সঞ্চয়পত্র বন্ধ করে দেওয়া মানে হলো- নতুন করে ওই সঞ্চয়পত্র আর বিক্রি করা হবে না। তবে যারা আগেই কিনে রেখেছেন, তারা নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত নির্ধারিত হারে সুদ পাবেন।

বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্রের সুদের হারই সবচেয়ে বেশি, সাড়ে ১৩ শতাংশের মতো। নারীদের জন্য ‘বিশেষ’ সুবিধার অংশ হিসেবে সরকার এই সঞ্চয়পত্রটি চালু করে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ অর্থসূচককে বলেন, অনেক দিন থেকেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ। তাই বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে যাচ্ছেন না। তাই ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার পরিমাণ বেড়ে গেছে। তাই তারা আমানতের সুদহার কমিয়ে দিয়েছে। তাই সাধারণ মানুষ টাকা ব্যাংকে রাখার চেয়ে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছে।

তিনি আরও বলেন, সঞ্চয় পত্রের বিনিয়োগের কোনো ঝুঁকি নেই তাই সল্প ও মধ্যম আয়ের লোকেরা এ খাতে বিনিয়োগ বেশি করে থাকে।

উল্লেখ্য, জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তরের মাধ্যমে বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্র, প্রতিরক্ষা সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, ছয় মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়।

এসএই/এআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ