‘রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা মৌলবাদের উত্থান ঘটাতে পারে’

0
74
fundamentalist may rise

fundamentalist may riseবাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের বিপরীত অবস্থান ধর্মীয় মৌলবাদের উত্থানে রসদ যোগান দিচ্ছে বলে মনে করছেন মার্কিন কংগ্রেস ম্যান স্টিভ চ্যাবট। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক উপ কমিটির প্রধান স্টিভ চ্যাবট গত নভেম্বরে দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন।

এসময় তিনি দশম সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সংকট নিরসনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং  তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। কিন্তু দেশের প্রধান দুই দলের অনড় অবস্থানের কারণে মার্কিন সরকারের এই উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

চ্যাবট মনে করছেন, প্রধান দুই দল সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে রাজনৈতিক অস্থিশীলতা দীর্ঘায়িত হতে পারে। যা মৌলবাদের উত্থানের মত ভয়ানক পরিণিতি ডেকে আনতে পারে। তিনি বলেন, প্রধান দুই দল সমঝোতায় আসতে না পারলে ইসলামি মৌলবাদের পথ প্রশস্ত হয়ে উঠতে পারে। যার মাধ্যমে রক্ষণশীল দলগুলো মানুষের আরও বেশি সমর্থন পেয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রেও পৌঁছে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, উদারপন্থী দলগুলোর পারস্পরিক বিরোধিতার সুযোগে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে মৌলবাদীরা আরও অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের সরকারের পরিসংখ্যানও এই অনুমানকে সমর্থন দিচ্ছে। সরকারি সূত্র মতে, ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত দেশে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫৬ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি দেশগুলোর অর্থায়নে পরিচালিত।

ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক আলী রিয়াজের মতে, এই পরিবর্তন দেশের সামগ্রিক অবস্থার ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।

তবে দেশীয় বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধির সাথে মৌলবাদের উত্থানের কোন সম্পর্কে নেই। কেননা, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণেই অধিকাংশ পিতা-মাতা সন্তানদের এইসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করে থাকেন। বাংলাদেশে সরকারিভাবে বিনামূল্যে শিক্ষালাভের নিয়ম থাকলেও সন্তানের শিক্ষার আনুষাঙ্গিক খরচ মেটাতে বেশিরভাগ অভিভাবকের নাভিশ্বাস উঠে যায় বলে জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার এবং সংবিধান সংশোধনেকে কেন্দ্র করে ২০১৩ সাল জুড়ে দেশে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সরকার, বিরোধী দল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে এই সময় কয়েক শত মানুষ নিহত হয়। এছাড়াও মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে গণজাগরণে ডাক দেয় তরুণেরা। এরপর পরই হেফাজতে ইসলামের নামের একটি সংগঠন শরিয়া আইন চালুর দাবিতে রাজধানীতে অবস্থান নেয়। এছাড়াও জাতীয় নির্বাচন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এইসব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। পরবর্তীকালে এইসব দেশের পক্ষ থেকে সংকট নিরসনে একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার পরেও রাজনীতিকদের অনড় অবস্থানের কারণে এদের কোনটিই শেষ পর্যন্ত সফলতার মুখ দেখেনি।