বালিতে অগ্নুৎপাতের আশঙ্কায় ‘রেড এলার্ট’ জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

0
118

ইন্দোনেশিয়ার বালির মাউন্ট আগুংয়ের জ্বালামুখ থেকে অগ্নুৎপাতের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটির বিমান চলাচল ব্যবস্থা এ সতর্কতা জারি করেছে। আগ্নেয়গিরির ঘন ধোঁয়ায় বালি দ্বীপের আকাশ ঢেকে যাওয়ায় এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো ইন্দোনেশিয়ায় এ আগ্নেয়গিরির ধোঁয়া বের হওয়া শুরু হয়েছে। আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ঘন ধোঁয়াটির উচ্চতা ১৩ হাজার ১০০ ফুট। এতে সেখানকার অন্তত ২৮টি বিমান চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। আটকা পড়েছে অন্তত দুই হাজার পর্যটক।

মাউন্ট আগুংয়ের আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে নির্গত ধোঁয়া।ছবি সংগ্রহ।

বিবিসির খবরে জানা যায়, এ ‘রেড এলার্ট’ মানে আসন্ন অগ্ন্যুৎপাত হওয়ার পূর্বাভাস। যে অগ্নুৎপাতের আগে ঘন ধোঁয়া দেখা যায়।

ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়া এলাকাগুলোতে কর্তৃপক্ষ মাস্ক বিতরণ শুরু করেছে। পর্যটনস্থান গুলোর মধ্যে বালি অন্যতম। যদিও কুতা ও সেমিনিয়াক এলাকার রিসোর্টগুলো আগ্নেয়গিরি থেকে ৭০ কি.মি দূরে অবস্থিত।

আগ্নেয়গিরির ধোঁয়ায় বিমানের ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনায় কিছু বিমানবন্দর তাদের বিমান চলাচল স্থগিত করেছে। তবে দ্বীপটির প্রধান বিমানবন্দর চালু রয়েছে।

ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে বালি দ্বীপের রাস্তাঘাট। ছবি বিবিসি।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার তথ্য পরিচালক এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, মাতারাম অঞ্চলের লম্বক শহরে আগ্নেয়গিরির ধোঁয়া থেকে বৃষ্টিপাত হয়েছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, বালির পর্যটন ব্যবস্থা এখনো নিরাপদ রয়েছে। শুধু মাউন্ট আগুংয়ের বিপদজনক এলাকা বাদে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই অগ্নুৎপাতের ভয়ে দেড় লাখ মানুষ দ্বীপ ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যায়। এ বছর অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ায় সেখানে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ পর্বতে এখনো ১৩০টি জীবন্ত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, পর্যটন দ্বীপটি খালি হয়ে যাওয়ায় এতে পর্যটন খাতে অন্তত ১১ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ‘আগুনের চক্রে’ অবস্থিত। যার কারণে টেক্টোনিক প্লেটগুলোর ধাক্কায় ঘনঘন ভূকম্পন ও অগ্নুৎপাতের সম্ভাবনা থাকে।

মাউন্ট আগুং আগ্নেয়গিরি থেকে সর্বশেষ ১৯৬৩ সালে অগ্নুৎপাত হয়েছিল। তখন ১৬০০র বেশি লোকের প্রাণহানি ঘটেছিল। গত পাঁচ দশক ধরে আ্গ্নেয়গিরিটি শান্ত অবস্থায় ছিল। কিন্তু চলতি বছরে আবার অশান্ত হতে শুরু করেছে বিপদজনক এই অাগ্নেয়গিরিটি।

অর্থসূচক/এসবিটি