‘পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হওয়ার ১৯ মাস পরও মিলেনি চাকরি’

0
87
Teacher

Teacherস্বপ্ন ছিল শিক্ষকতা পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করবো এবং নিরক্ষরতামুক্ত জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবো। কিন্তু  সেই স্বপ্ন এখন অভিশাপের মতো মনে হচ্ছে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ১৯ মাস পরেও চাকরি মিলেনি।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পুলভুক্ত শিক্ষকদের নিযোগের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে নিয়োগ প্রত্যাশিত শিক্ষকরা হতাশা প্রকাশ করে এসব কথা বলেন।

শিক্ষকরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই একটি দাবিতে মানববন্ধন, সমাবেশ স্মারকলিপি প্রদানসহ বেশ কয়েকটি প্রোগ্রাম করেছি আমরা। আমাদের চাকরির বয়সও শেষ হয়ে গেছে। এই অবস্থায় একূল-ওকূল দুই কূল হারানোর অবস্থা হয়েছে। শিক্ষকরা চাকরি না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তবু সরকারের দয়া হয় না।

তারা বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পর সারা দেশের লক্ষাধিক চাকরি প্রত্যাশী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক পদে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এরপর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা শেষে ১৫ হাজার ১৯ জন শিক্ষককে পুলভুক্ত শিক্ষক হিসেবে নির্বাচন করা হয়। কিন্তু পুলভুক্ত এই শিক্ষকদের নির্বাচনের পর ১৯ মাস পার হয়ে গেলেও তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে শিক্ষকদের এই আন্দোলনের মুখপাত্র পলাশ বলেন, গত ২০১১ সালের ৪ আগস্টে বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তারা আবেদন করেছিলেন। এরপর গত ২০১২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং এরপর মৌখিক পরীক্ষা শেষে তাদের নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে পুলভুক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, সরকার বলেছিল ছয় মাস পুলভুক্ত থাকার পর এদের মধ্য থেকে পর্যায়ক্রমে শতকরা ১০ ভাগ করে লিভ রিজার্ভ কোটায় নিয়োগদানের ব্যবস্থা করা হবে। এই প্রক্রিয়ার পর ১৯ মাস অতিক্রান্ত হয়েছে।কিন্তু এখনো পর্যন্ত পুলভুক্তদের কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমিউনিটি বিদ্যালয়েও আমাদের নিয়োগ দিয়ে অনিশ্চয়তার নিরসন করা যায়। কিন্তু সরকারের কোনো পর্যায় থেকেই এই ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক সাড়া নেই’।

সংগঠনের সভাপতি মঞ্জুর আহম্মেদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সংগঠনের সাধারণ-সম্পাদক আহমেদ জামান, পুলভুক্তদের মধ্যে আশরাফুন্নাহার, নুরুন্নাহার, লাইলী আক্তার, আক্কাস আলী মৃধা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেইউ/এএস