৫২৯ জন মুরসি সমর্থকের ফাঁসির আদেশ

0
77
egypt
ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ মুরসির সমর্থকদের একটি সমাবেশ (ফাইল ছবি)

egyptমিশরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির  ৫২৯ জন সমর্থকের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে দেশটির আদালত। সোমবার দেশটির রাজধানী কায়রোর একটি আদালত এই রায় ঘোষণা করে। দণ্ডপ্রাপ্তদের অধিকাংশই দেশটির নিষিদ্ধ ঘোষিত দল মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। খবর বিবিসির।

গত বছরের জুনে মিশরের সেনাবাহিনী মুসলিম ব্রাদারহুদের নেতা মোহাম্মদ মুরসিকে সরিয়ে মিশরের ক্ষমতা দখল করে নেয়। এরপর থেকে দেশটিতে শাসন ব্যবস্থায় সামরিক হস্তক্ষপের প্রতিবাদ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে হাজার হাজার মুরসি সমর্থক।

পরবর্তীতে  বিক্ষোভকারীদের দমাতে ১৪ আগস্ট কায়রোর সিনায়াতে অবস্থিত মুরসি সমর্থকদের ক্যাম্পে অভিযান চালায় মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী। এই অভিযানে দেশটির মিনায়া অঞ্চলের পুলিশের ডেপুটি কমান্ডারসহ প্রায় ৬০০ মানুষ নিহত হয়। এছাড়াও দেশটির বিভিন্ন স্থানে মুরসি বিরোধী, মুরসি সমর্থক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। দেশটির সেনা সমর্থিত অন্তর্বতীকালীন সরকার এই জন্য মুরসির সমর্থকদের দায়ী করে এবং প্রায় ১২০০ মুরসি সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, নৈরাজ্য এবং ভাঙ্গচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগ দায়ের করে মিশরের সরকার।

সোমবার সিনায়ার আদালত আগস্ট হত্যাকান্ডসহ দেশটি বিভিন্ন পুলিশ স্টেশনে হামলার জন্য ৫২৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়। মিশরের সংবাদ মাধ্যম জানায়, দণ্ডপ্রাপ্তদের ১৫৩ জন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং বাকিরা এখনও পলাতক।

তবে অভিযুক্তদের আইনজীবিরা আদালতের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের উত্থাপন করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। তাদের অভিযোগ, মামলার শুনানিতে তাদেরকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে সেনা বাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ২০১১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মিশরের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাড়ান হোসনি মোবারক। পরবর্তীতে ২০১২ সালের জুনে সেনা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় ধর্মীয় মৌলবাদী দল মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা মুরসি। এরপর থেকে দেশটির বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে এবং একচ্ছত্র আধিপত্যের লক্ষ্য একের পর এক ডিগ্রি জারি করেন মুরসি। এরই প্রতিবাদে মিশরের জনগণ আবার রাস্তায় নেমে আসে এবং অব্যাহত আন্দোলনের জেরে মুরসিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয় দেশটির সেনাবাহিনী।