বাংলাদেশে তেল রপ্তানির উদ্দেশ্যে পাইপলাইন স্থাপন করবে বিপিসিএল

0
77

oilpipelineবাংলাদেশে স্থলপথে তেল রপ্তানির উদ্দেশ্যে পাইপলাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (বিপিসিএল)। প্রস্তাবিত ১৩০ কি.মি. দীর্ঘ এই পাইপলাইন দ্বারা ভারতের শিলিগুড়ি টার্মিনাল সাথে বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরকে সংযুক্ত করা হবে। সোমবার প্রতিষ্ঠানটির এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ইকোনমিক টাইমসে প্রকাশিত এক খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন হাই স্পিড ডিজেল বাংলাদেশে রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করছে বিপিসিএল। প্রতিষ্ঠানটির এর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা জানান, আগামি এক মাসের মধ্যে  পাইপলাইন স্থাপনে লক্ষ্যে জরিপ কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল রপ্তানির বিষয়টি নিশ্চিত করতে খুব শিগগিরই  বিপিসিএল এর একটি দল বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে। এই সময়ে সরকারের সাথে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হতে পারে জানিয়েছেন তিনি। ভারত পেট্টোলিয়াম আশা করছে, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে মায়ানমারেও তেল রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হবে কিনা সে ব্যাপারে কিছু জানান যায়নি।

বিপিসিএল জানায়, এই পাইপলাইন স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার কোটি রুপি। তবে এই ব্যয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোন অংশীদারিত্ব আছে কিনা সে ব্যাপারে কিছু জানায়নি বিপিসি।

ইকেনমিক টাইমস জানায়, বাংলাদেশ এবং নেপালে তেল রপ্তানির উদ্দেশ্যে ভারতের আসাম রাজ্যের গোলাহাট জেলায় অবস্থিত নুমলীগড় তেল শোধনাগরকে রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার  সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিপিসিএল। এর মাধ্যমের তেল রপ্তানির পরিমাণ তিন গুণ বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছে তারা।

নুমলীগড়ের মাধ্যমে জলপথে ২০০৭ সালে বাংলাদেশে ৪ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন তেল রপ্তানি করেছে বিপিসিএল। যার আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ১৫ কোটি রুপি।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের শেষ ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ১৬ লাখ ৬০ হাজার টন বিভিন্ন ধরনের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করছে সরকার। আটটি বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে এ জ্বালানি সংগ্রহ করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১১ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা।