চট্টগ্রামে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যদিয়ে শেষ হলো ভোটগ্রহণ

0
57
Upazila_Election

Upazila_Electionচট্টগ্রামের সাতটি উপজেলা নির্বাচনে প্রায় অর্ধশত কেন্দ্রে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে ভোটগ্রহণ। ভোট গ্রহণ শেষে চলছে ভোট গণনার কাজ।

জানা যায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাতকানিয়ায় সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ছোট হাতিয়া হাজী লক্ষ্মী বিবি আদর্শ এবতেদিয়া মাদ্রাসায় আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় উভয় প্রার্থীর সমর্থকরা ৬টি বুথ থেকে ব্যালটভর্তি ৬টি বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যায়। সাড়ে ১০টা থেকে কার্যত ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকার পর আর চালু  করতে পারিনি।

এদিকে ফটিকছড়ি উপজেলার ধুরং খুলশী লায়ন উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে এক পোলিং অফিসারের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর (মোটর সাইকেল) এর অনুসারীরা এ হামলা চালায়। হামলায় আহত পোলিং অফিসারের নাম, জিয়া উদ্দিন। তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা নির্বাচনে ভোট বর্জন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত চেয়াম্যান প্রার্থী জালাল উদ্দিন আহমেদ। আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সমর্থকদের কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেওয়া, ব্যালট ছিনতাই ও ভোটারদের ভয় ভীতি দেখানোর হওয়ায় ভোট স্থগিত করে পুনঃ নির্বাচনের দাবি জানান।

এদিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৯টি ভোট কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়েছে অভিযোগ করেছে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু আহমেদ হাসনাত। এসব কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবী জানান তিনি।

রোববার দুপুর ২টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার কালা বিবির দিঘী এলাকায় নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিএনপি সমর্থিত চেয়াম্যান প্রার্থী জালাল উদ্দিন আহমেদ।  পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া, আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সমর্থকদের কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেওয়া, ব্যালট ছিনতাই ও ভোটারদের ভয় ভীতি দেখানোর অভিযোগে তিনি এ ঘোষণা দেন।

জেলা নির্বাচন অফিসার খোরশেদ আলম জানান, চট্টগ্রামের সাত উপজেলার ৬৬৬ টি কেন্দ্রে  ভোটগ্রহণের জন্য ১৪ হাজার ২২৭ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে সাতশ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৪ হাজার ৫২৯ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৯ হাজার ৯৮ জন পোলিং অফিসার।

উপজেলাগুলো হচ্ছে, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, রাউজান, রাক্সগুনিয়া এবং ফটিকছড়ি।

সংলিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাত উপজেলায় মোট ১০২ জন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট যুদ্ধে জয়ের অপেক্ষায় আছেন। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩১ জন প্রার্থী। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৬ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৫ জন প্রার্থী আছেন।

ভোটগ্রহণ শেষে প্রত্যেক কেন্দ্র থেকে ভোট গণনা শেষে তা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সেখান থেকে বিজয়ী প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।