লোকসানী কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি
বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার

লোকসানী কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি

dseউৎপাদন বন্ধ ও লোকসানের মধ্যে থাকার পরও শেয়ারের দর বৃদ্ধি থেমে নেই কয়েকটি কোম্পানির। বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণের কারনে এসব কোম্পানির শেয়ার দর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। এতে করে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বিনিয়োগকারীরা। উৎপাদন ও লেনদেন বন্ধ থাকার পরেও কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়,  রহিমা ফুড, নর্দান জুট এবং কে এণ্ড কিউসহ কয়েকটি কোম্পানি সরজমিনে পরিদর্শনে যান ডিএসই কর্তৃপক্ষ। ওই সময় ওই সব কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ দেখতে পান তারা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে এক সময় আবারও ক্ষতির মুখে পড়বে বিনিয়োগকারীরা। তাই যে কোনো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করার সময় বুঝে, শুনে, দেখে ওই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি মুহাম্মদ এ হাফিজ অর্থসূচককে বলেন, পুঁজিবাজার হল বুঝে শুনে বিনিয়োগ করার জায়গা। এখানে কারও কথায় বিনিয়োগ না করে কোম্পানির সব কিছু দেখে যদি একজন বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করে তাহলে তারা প্রতারিত হবে না।

তিনি বলেন, যদি কোনও বিনিয়োকারী কোম্পানির কোনও কিছু না জেনে বিনিয়োগ করে তাহলে তারা ভালো কিছু করতে পারবে না। তাই কোনো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করার আগে ওই কোম্পানি সম্পর্কে জেনে শুনে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে না করার শর্তে ডিএসইর এক পরিচালক অর্থসূচকে বলেন, যেখানে ডিএসইর প্রতিনিধি দল সরেজমিনে পরিদর্শন করার পর প্রতিবেদন দেন কোম্পানিগুলো উৎপাদনে নেই। সেখানে কেনই বা বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করেন।

তিনি বলেন, তাই কোনো শেয়ারে বিনিয়োগ করার আগে তাদেরকে ওই সব কোম্পানির সব কিছু  দেখে বিনিয়োগ করবেন। যাতে করে তারা ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।

রহিমা ফুড:

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, খাদ্য ও আনুসাঙ্গিক খাতের কোম্পানি রহিমা ফুড অস্বাভাবিক লেনদেনের কারণে দুই মাস লেনদেন বন্ধ রাখে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। ৩০ সেপ্টেম্বর লেনদেন বন্ধ হওয়ার পর ২১ নভেম্বর আবারও শেয়ার লেনদেন শুরু হয়।

গত ৯ অক্টোবর ডিএসইর একটি প্রতিনিধি দল রহিমা ফুডের কারখানা পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দল কারখানা উৎপাদন বন্ধ দেখতে পায়। পরে প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে এক প্রতিবেন দাখিল করে।

এছাড়াও কোম্পানির বর্তমান লোকসান প্রায় ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ২০ কোটি টাকা।

গত ২১ নভেম্বর  লেনদেন শুরু হওয়ার পরে আবারও অস্বাভাবিক হারে এ শেয়ারের দর বাড়তে থাকে। ২১ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১৩ কার্যদিবসে এ শেয়ারের দর বেড়েছে ১১৮ শতাংশ।

লেনদেন শুরু হওয়ার দিনে ২১ নভেম্বর কোম্পানির শেয়ার ৩৭ টাকা ৭০ পয়সা দরে বিক্রি হয়েছিল। এর পরে ১৩ কার্যদিবস পর ১০ ডিসেম্বর এ শেয়ারের দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ টাকা ৬০ পয়সা।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির কর-পরবর্তী লোকসান হয়েছে ৩২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তবে আগের বছরের একই সময়ে কর-পরবর্তী মুনাফা হয় ৩৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ সময়ে এর শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৬ পয়সা, তবে আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয় ১৭ পয়সা।

কোম্পানিটি ২০১২ সালের সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এ সময়ে এর কর-পরবর্তী নেট মুনাফা হয়েছে এক কোটি ২৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা, এনএভি ৪ টাকা ৪৬ পয়সা এবং ইপিএস ৬২ পয়সা। ২০১১ সালের জন্যও একই পরিমাণ লভ্যাংশ দেয়া হয়।

নর্দান জুট:

পাট খাতের কোম্পানী নর্দান জুটের লোকসান প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ টাকা।  এর পরও গত এক মাসে এ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ৪১ শতাংশ ।

সম্প্রতি ডিএসইর একটি প্রতিনিধি দল নর্দান জুটের কারখানা পরিদর্শন করে। সেখানেও তারা কোম্পানিটির কারখানা উৎপাদন বন্ধ দেখতে পায়। ওই সময় কর্তৃপক্ষ ওই প্রতিনিধি দলকে জানায়, কারখানা রক্ষাণাবেক্ষণের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির কর-পরবর্তী লোকসান হয়েছে ৪০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। তবে আগের বছরের একই সময়ে কর-পরবর্তী মুনাফা হয় ৫০ লাখ ৫২ হাজার টাকা। এ সময়ে এর শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৫৬ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় ৩ টাকা ২৫ পয়সা।

কে এন্ড কিউ:

প্রকৌশল খাতের কোম্পানি কে এন্ড কিউ কোম্পানির লোকসান এক কোটি ৯৫ লাখ টাকা। কারখানায় কারিগরী সমস্যার কারণে বন্ধ রয়েছে উৎপাদন। তবে থেমে নেই এ কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্বির ধারা। গত এক মাসে থেকে এ শেয়ারের দর বেড়েছে প্রায় ২১ শতাংশ।

কোম্পানিটির অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে,চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কর-পরবর্তী লোকসান হয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা । তবে আগের বছরের একই সময়ে কর-পরবর্তী লোকসান হয়েছিল ৩০ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। এ সময়ে এর শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৯ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় ৭২ পয়সা।

এসএম/জিইউ

 

 

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ