শত কোটি টাকা লোকসানের মুখে রাজশাহী চিনিকল

0
69

Rajshahi-Sugar-Milsরাজশাহী চিনিকল গত দুই বছর ধরে লোকসানের পর এবারও প্রায় ১০০ কোটি টাকা লোকসান গুণতে যাচ্ছে। লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে চিনিকলটি গত বছরের নভেম্বরে আখ মাড়াই শুরু হয়। কিন্তু এই চিনিকলটিতে এখন ১৮ হাজার মেট্রিকটন চিনি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। যার বিক্রিত মূল্য আনুমানিক ৮০ কোটি টাকা।

অন্যদিকে আখ বাবদ মিল কর্তৃপক্ষের নিকট কৃষকরা পাওনা রয়েছে ২০ কোটি টাকারও বেশী। এই পরিস্থিতিতে গত জানুয়ারি মাস থেকে কর্মচারিদের বেতন-ভাতাও ঠিক মতো দেওয়া হচ্ছে না। আগের বকেয়া আছে প্রায় ৫ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে রাজশাহী চিনিকলকে এবারও ১০০ কোটি টাকারও বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে ২০১২-২০১৩ মৌসুমের ৯ হাজার ১৪৫ মেট্রিক টন অবিক্রিত চিনির সাথে যোগ হয়েছে ২০১৩-২০১৪ মৌসুমের ৯ হাজার ১০০ মেট্রিক টন চিনি। সূত্র বলছে, মজুদ চিনির পুরোটাই অবিক্রিত পড়ে রয়েছে। এবার আবার নতুন করে প্রায় ১৮ মেট্রিকটন চিনি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে।

এদিকে চিনি বিক্রি না হওয়ায় সরবরাহ করা আখের পাওনা টাকার জন্য কৃষকরা যেমন ঘুরছেন দিনের পর দিন তেমনি মিলের শ্রমিক কর্মচারীও বেতন পাননি গত তিন মাস।

সূত্র আরো বলছে, পূর্বের নির্ধারিত ৫০ টাকা কেজি থেকে দাম কমিয়ে ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে চিনি। এর পেছনের কারণ হলো বিদেশ থেকে আমদানি করা চিনির মূল্য আরো ২/৩ টাকা কম। ফলে দেশীয় উৎপাদিত চিনি বিক্রিতে আগ্রহী হচ্ছে না ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, প্রাইভেট চিনিকল থেকে চিনি কিনলে ডিলারদের কোন ট্যাক্স দিতে হয় না। কিন্তু মিল  থেকে চিনি কিনলে তাদের শতকরা সাড়ে ৪ টাকা হারে ট্যাক্স দিতে হয়। যার কারণে ডিলাররা মিল  থেকে চিনি কিনতে আগ্রহ দেখায় না। চিনি বিক্রি না হওয়ার কারণে মিল কর্তৃপক্ষ কৃষকের পাওনা এবং শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া বেতন নিয়ে বেকায়দায় রয়েছেন।

মিলের একটি সূত্র জানায়, কম দামের বিদেশি চিনির কারণে স্থানীয় বাজারে দেশীয় চিনিকলের চিনির চাহিদা না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক জানান, বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় কর্মচারীরা বেকায়দায় রয়েছে।

অন্যদিকে কৃষকদের অসহায়ত্বের সুযোগে এক শ্রেণীর সুবিধাবাদী নেমেছে ব্যবসায় তারা কৃষকদের বকেয়া বিল শতকরা ৮/১০ টাকা কমে কিনে নিচ্ছে। চিনি আমদানি, উৎপাদন এবং বিক্রির ক্ষেত্রে সুষ্ঠু নীতিমালা গ্রহণ করা না হলে দেশের চিনিশিল্প পড়বে ধংসের মুখে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশে উৎপাদিত হাজার হাজার মেট্রিক টন চিনি অবিক্রিত পড়ে থেকে নষ্ট হলেও রমজান মাসে অলৌকিকভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে যাবে চিনির দাম এই তিক্ত অভিজ্ঞতাও রয়েছে ক্রতোদরে।

এ ব্যাপারে চিনিকলের জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) পিয়ারুজ্জামানরে নিকট বার বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এমআই/সাকি