নারীর স্পর্শকাতরতা রক্ষায় নির্দেশিকা ঘোষণা করেছে ভারত

0
59
indian guideline

indian guidelineশারীরিক ভাবে নিপীড়িত নারীর স্পর্শকাতরতা রক্ষায় নতুন নির্দেশিকা ঘোষণা করেছে ভারত। সম্প্রতি দেশটির রাজধানী নয়া দিল্লিতে যৌথভাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই নির্দেশিকা প্রকাশ করে। ভারতীয় বিচারপতি জে. এস. ভার্মা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিকো-আইনি নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে। খবর ডয়েচে ভেলের।

নির্দেশিকার প্রধান সংস্থানগুলির মধ্যে আছে, ধর্ষিতা নারী দেশের যে কোনো সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলিতে বিনা পয়সায় চিকিৎসা ও ওষুধপত্র পাবেন। এমনকি, ঘরে ফিরে যাওয়ার পরও পাবেন। শিল্প সংস্থা বা কর্পোরেট দুনিয়া তাদের সামাজিক দায়িত্ব পালনের অঙ্গ হিসেবে এই নির্দেশিকা যাতে মেনে চলে, তার জন্য আবেদন রাখা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং নার্সিং হোমগুলিকে এই নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। যৌন নিগ্রহের অন্যান্য ক্ষেত্রেও এই নীতিগুলি প্রযোজ্য হবে।

এই নির্দেশিকা অনুসারে কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না:

১) ধর্ষিতা ও নিগৃহীতার মেডিক্যাল টেস্ট করার সময় চিকিৎসা কক্ষে ডাক্তার ছাড়া অন্য কেউ থাকতে পারবে না। ডাক্তার যদি পুরুষ হন, তাহলে একজন মহিলা কর্মীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।

২) বিতর্কিত জোড়া আঙুল পরীক্ষা  নিষিদ্ধ। এই পরীক্ষায় ধর্ষিতার যোনিপথে বা পায়ুদেশে আঙুল ঢুকিয়ে দেখা হয় তাঁর সতিচ্ছদ অক্ষত আছে কিনা।

৩) ডাক্তাররা তাঁদের মৌখিক মতপ্রকাশে বা জবানবন্দি দেওয়ার সময় ‘ধর্ষণ’ শব্দবন্ধটি উচ্চারণ করতে পারবেন না। ধর্ষণের আইনি সংজ্ঞা আলাদা, মেডিক্যাল পরিভাষায় তা গ্রাহ্য নয়।

৪) চিকিৎসা পরিষেবা পেতে প্রথমে পুলিশের কাছে যাওয়া ধর্ষিতার পক্ষে বাধ্যতামূলক নয়।

৫) ধর্ষণের বিষয়টি ফরেনসিক-মেডিক্যাল রিপোর্টের ভিত্তিতে স্থির করা বাধ্যতামূলক।

৬) ধর্ষিতা মহিলাকে পরীক্ষার আগে জানাতে হবে তাঁর কী ধরণের পরীক্ষা করা হবে এবং তার পদ্ধতি কী?

ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ধর্ষিতা নারীর স্পর্শকাতরতা বজায় রেখে ধর্ষণের মেডিক্যাল তথ্যপ্রমাণ যাতে নথিভুক্ত করা হয় এবং আরো বেশি সংখ্যক অপরাধীকে শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে এই নির্দেশিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।