জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল বাড়ানোর দাবি

0
85

pksfজলবায়ু পরিবর্তন জনিত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য যে তহবিল গঠন করা হয়েছে তার আকার আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়েন্স ফান্ড’ বা বিসিসিআরএফ যে আয়তনের তহবিলের প্রস্তাব করেছে তার আকার আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

তবে ওই তহবিলের টাকা ছাড়াই কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমানোর ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে বলেও জানান তারা।

রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদ (বিইউপি)-র  আয়োজনে ‘জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সমস্যা ও দেশীয় পদক্ষেপ: বাংলাদেশ কেস স্টাডি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় এসব কথা উঠে আসে।

এ সময় পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ক্রাইমেট চেঞ্জ নেগোসিয়েশন টিমের সমন্বয়কারী ড. খলীকুজ্জামান আহমেদ বলেন,  ‘জলবায়ূ পরিবর্তনের ফলে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। গবেষণা অনেক করা হয়েছে। এখন কাজ করা প্রয়োজন। এ  নিয়ে অতীতে কী কী কাজ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী কী করা হবে সে পরিকল্পনার বাস্তবায়নও প্রয়োজন।’

খলীকুজ্জামান জানান, ক্ষতিগ্রস্থ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য  ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়েন্স ফান্ড যে  ২০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করেছে তা আমাদের জন্য যথেষ্ট নয়। তার মতে এই ক্ষতি কাটিয়ে নিতে আমাদের  ২০০ কোটি ডলারের প্রয়োজন।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের প্রায় ৮০ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি জানান ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষ কিছু কিছু ইতোমধ্যে ঢাকা চট্টগ্রামের মত শহরগুলোতে উদ্বাস্তু হয়ে দিন কাটাচ্ছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্তকরে বলেন সহায়তার অর্থে আমরা যদি এখন থেকে উপকূলীয় এলাকাগুলো উঁচু করি তবে উদ্বাস্তুদের সংখ্যা কমে যাবে।

প্রসঙ্গত বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়েন্স গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয় ২০০৮ সালে। এরপর বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী দেশের সঙ্গে আলোচনা করে তহবিলটি তৈরি করা হয়। তহবিলটিতে এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন, সুইডেন আর ডেনমার্ক থেকে অর্থ এসেছে। এর বাইরে অস্ট্রেলিয়াও অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এদিকে সরকারের ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদ দেশের ২০ উপজেলায় একটি স্বল্প মেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে জানান সংগঠনটির কর্মকর্তরা। এছাড়া সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সৌরবিদ্যুৎ চালিত মিষ্টি পানি সরবরাহ প্রকল্প ও অন্য দুটি জেলায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট বসানোর মাধ্যমে জনগণকে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তারা।

বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের ভাইস চেযারম্যান ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ  ড. রেজাউল করিম বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে করা এসব কাজের জন্য বিশ্বের কাছে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। উন্নত দেশগুলো প্রতিশ্রুত অর্থ দিলে আমরা আরও এগোতে পারতাম।

তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বাংলাদেশের কেমন ক্ষতি হবে তা সঠিক ভাবে জানার জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালিয়ে যাওযার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ জলিলের সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের রিচার্স ফেলো ড. গোলাম মাহাবুব সরওয়ার ও বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের সিনিয়র রিচার্স অ্যাসোসিয়েট তরফদার মো. আরিফুর রহমান। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিকেএসএফএর  ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ড. আব্দুর করিম, অক্সফামের কান্ট্রি ডাইরেক্টর স্নেহার সনিজি এবং আয়োজক সংস্থা বিইউপির নির্বাহি পরিচালক ড. নিলুফার বানু প্রমুখ।

এমআর/