যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই ঝুঁকছে ইউরোপ

0
81
EU-US trade talks

EU-US trade talksরাশিয়া ছেড়ে এবার যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকে পড়ছে ইউরোপ। ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত জটিলতার গ্যাঁড়াকলে পড়ে ভোগ্য-পণ্য এবং জ্বালানির জন্য আটলান্টিকের ওপারের দেশটির সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে চাইছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্রও এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছে না। তাই এই অঞ্চলের সাথে বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর লক্ষ্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ওবামা প্রশাসন। খবর রয়টার্স বার্তা সংস্থার।

গত নভেম্বরে ইইউ’র সাথে ইউক্রেন সরকারের বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে জটিলতার শুরু। তিন মাসের মাথায় ইউক্রেনের রাশিয়াপন্থী প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচের পতনের পর পরিস্থিতি চরম রূপ ধারণ করে। পরবর্তীকালে ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়াকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজের সাথে একীভূত করার জেরে রাশিয়ার সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে উদ্যোগী হয় ইইউ। কিন্তু রাশিয়ার জ্বালানি এবং ভোগ্য-পণ্য খাতের ওপর সদস্য দেশগুলোর নির্ভরতার কারণে আগ বাড়িয়ে পদক্ষেপ নিতে পারছিল না এই আঞ্চলিক সংস্থা। ভোগ্য-পণ্য এবং জ্বালানি যোগানের চিন্তা সদস্যদেশগুলোর ক্ষমতাসীন সরকারের ঘুম হারাম করে দেয়। অবশেষে এমন দোটানা মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের পদাঙ্ক অণুসরণ করে রাশিয়ার ওপর অবরোধ আরোপ করে ইইউ।

উপায়ন্তরহীন ইইউ তাই ভোগ্য-পণ্য এবং জ্বালানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই শেষ আশ্রয় হিসেবে বিবেচনা করছে। ঠিক এই মূহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র সরকারও এই অঞ্চলের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে উদ্যোগী হয়।

উভয়পক্ষের আশা করছে, দুই অঞ্চলের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

ওবামা প্রশাসন চাইছে, ট্রান্সাটলান্টিক ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশীপ নামক চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই সম্পর্ক জোরদার হোক। তবে আড়িপাতার নামে মার্কিন সরকারের খবরদারির জন্য ইইউ’র অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্র এই পথে পা বাড়াতে চাইছে না। কিন্তু রাশিয়ার সাথে ইউরোপের সম্পর্কের সাম্প্রতিক অবনতির কারণে এছাড়া আর কোন পথই খোলা নেই ইইউ’র সামনে।