নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রমঅধিকার খতিয়ে দেখতে আসছে ইইউ প্রতিনিধি দল

0
57

European Parliamentবাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও খাতটির কর্মপরিবেশ উন্নয়নের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকা আসছে। রানা প্লাজার মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর উপলক্ষে দলটি আগামি ২৪ এ ২৫ মার্চ ঢাকায় অবস্থান করবে। এ সময়ে দলটি পোশাক কারখানার নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কারখানার মালিকদের সাথে বৈঠক করবে বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইইউর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক চেয়ারপাসন জেন ল্যাম্বার্টের নেতৃত্বে আসা দলটি মূলত গেল বছর জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা করবে।

ধারণা করা হচ্ছে ইউরোপের বাজারে জিএসপি সুবিধা বহাল রাখতে ওই প্রতিনিধি দলটির এ পরিদর্শন বেশ গুরুত্ব বহন করবে। উল্লেখ্য কিছু দিন আগে ইইউ এ বিষয়ে হুশিয়ার করে দিয়েছিলো। তার আগে রানা প্লাজার ঘটনার পরে যুক্তরাষ্ট্রও  তাদের দেশে বাংলাদেশি কিছু পণ্যের জন্য যে শুল্কমুক্ত সুবিধা (জিএসপি) ছিলো তা বাতিল করে এবং তা আবার ফিরিয়ে দেওয়া জন্য  কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়ন ও শ্রম অধিকার নিশ্চিতের শর্ত দিয়ে দেয়। সম্প্রতি ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের মতো জিএসপি বাতিল না করলেও  ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেতে সরকারকে চাপ দেয়।

এছাড়া রানা প্লাজা ধসের পরে সারা বিশ্বে যখন বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয় তখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মধ্যে একটি সমোঝতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। যেখানে দেশের পোশাক শ্রমিকেদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত ও তাদের অধিকার বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

এদিকে ওই ঘটনার পরপরই রানা প্লাজার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দানের লক্ষ্যে একটি তহবিল গঠনের ঘোষণা দেয় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। শ্রমিকদের ক্ষতিপুরণে একটি অনুদান চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয় তখন। রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য একটি জোটও গঠন করে  ইউরোপীয় ক্রেতারা। জানা গেছে, ইউরোপীয় ক্রেতা জোটটি  ২৪ মার্চে তাদের তহবিল থেকে আরও বেশকিছু শ্রমিককে অর্থ সহায়তা দেবে।

এছাড়া ২৮ মার্চ থেকে ‘রানাপ্লাজা ভোলেন্টারি কম্পেন্সেশন ট্রাস্ট’ নামের একটি তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্থ কর্মীদের আরও ৫০ হাজার টাকা অর্থ প্রদান করা হবে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), ইন্ডাস্ট্রি অলসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের গঠিত তহবিল থেকে রানা প্লাজার ৩ হাজার ৬৩৯ কর্মীকে এই অর্থ দেওয়া হবে। তবে আগে ২৮ মার্চ নিউ ওয়েভ বটম লিমিটেড নামের কারখানাটির ৫৮০ জন কর্মীকে এই অর্থ প্রদান করা হবে। আর ১৫ এপ্রিল বাকী চার কারখানার কর্মীদের এই অর্থ প্রদান করা হবে বলে জানান ।

উল্লেখ্য, রানা প্লাজার পাঁচটি কারখানা থেকে প্রাইমার্কসহ ওয়ালমার্ট, টেক্সম্যান, পিডব্লিউটি গ্রুপ, এনকেডি, ম্যাংগো, জেসিপেনি, গোল্ডেনপি ফেনিং, এলপিপি, ইসেনজা, কেয়ারফোর, সিঅ্যান্ডএ, ক্যাটোকোপ, চিল্ড্রেন প্লেস, বেনিটোন, আদিয়ার, আউচান, ড্রেসহার্ন, মেনিফাটুরা করোনা, প্রিমিয়ার ক্লোথিং, কিডস্ ফ্যাশন, স্টোর-২১, মাস্কট, মাটালান, এল কোর্টে ইনগিস, কিক, লবলো, বন মারচে, ক্যামিউ এর মতো মোট ২৯ কোম্পানি পোশাক কিনতো।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের অবস্থিত রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ১ হাজার ১২৯ জন নিহত হয়। এই ঘটনায় আহত হয় আরও ২ হজার ৫০০ মানুষ। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই রানা প্লাজায় বিভিন্ন পোশাক উৎপাদক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

এক হিসাবে দেখা যায় গত একদশকে বাংলাদেশে পোশাক কারখানা ধস, কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনায় প্রায় ১৮ শ শ্রমিক নিহত হয়েছে। অথচ ওই সব ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য রানা প্লাজার এই ক্ষতিপূরণ দিতে বাংলাদেশের গার্মেন্টস ম্যানুফেকচারার এ্যন্ড এক্সপোর্টার এসোসিয়েশন, ইন্ডাসট্রিয়াল অল গ্লোবাল ইউনিয়ন, বাংলাদেশ এমপ্লোয়ারস ফেডারেশন এবং মেইন বাংলাদেশ কোয়ালিশন অব লেবার ইউনিয়নও করে যাচ্ছে।