ধসের পরও মুনাফায় আছেন ১৪ শেয়ারের বিনিয়োগকারীরা

0
74

Share_2010-2013পুঁজিবাজারে ২০১০ সালের ভয়াবহ ধসের আঁচড় লাগেনি ১৪ কোম্পানির শেয়ারে। ধসের পর ৩ বছর অপেক্ষা করেও অনেক শেয়ারে মূলধনের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ফেরত পাননি বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু ওই ১৪ কোম্পানির শেয়ার শুধু তাদের মূলধনই রক্ষা করেনি, আড়াইশ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফাও দিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

আলোচিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬ টি বহুজাতিক কোম্পানি। বাকী ৮ টি কোম্পানি দেশীয়। তালিকায় জ্বালানি ও বিদ্যুত খাতের কোম্পানির সংখ্যা সবেচেয়ে বেশি, যার সংখ্যা ৪ টি। ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি আছে ৩ টি। আর ২ টি করে কোম্পনি আছে সিমেন্ট ও খাদ্য খাতের।

কোম্পানিগুলো হচ্ছে-পদ্মা অয়েল, যমুনা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, লিন্ডে বিডি, বিএটিবিসি, অলিম্পিক, ম্যারিকো, স্কয়ার ফার্মা, রেনেটা, বার্জার পেইন্টস, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, লাফার্জ সুরমা  সিমেন্ট ও গ্রামীণ ফোন।

২০১০ সালে ধসের আগে সূচকের সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল ৫ ডিসেম্বর। ওই দিনের দামের ভিত্তিতে কোম্পানিগুলোর শেয়ার কেনার প্রকৃত ব্যয় নির্ণয় করা হয়েছে। আর এ মূল্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে গত বৃহস্পতিবারের সমাপনী মূল্য। এ হিসেবে যে সব বিনিয়োগকারী ২০১০ সাল থেকে এসব কোম্পানির শেয়ার ধারণ করছেন, তারা অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি মুনাফায় আছেন। মুনাফার হার ২৫৪ শতাংশ। সবচেয়ে কম মুনাফা রয়েছে বার্জার পেইন্টসের শেয়ারে, সাড়ে ১২ শতাংশ।

প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম ছিল ৩০৯ টাকা। কোম্পানিটি ২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ১০ শতাংশ নগদ ও ৫০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে।  ২০১০ সালে যে বিনিয়োগকারীর হাতে ১ টি শেয়ার ছিল, তিনি বর্তমানে ৫ টি শেয়ারের মালিক। সব লভ্যাংশ মিলিয়ে তার কস্টিং দাঁড়িয়েছে ৬১ টাকা। গত বৃহস্পতিবার এ শেয়ারের সমাপনী মূল্য ছিল ১৫৪ টাকা।  এ হিসেবে প্রতি শেয়ারে মুনাফা ১৫৪ টাকা। ২১৫ টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে তিনি এ মুনাফা পাচ্ছেন। এতে মুনাফার হার দাঁড়াচ্ছে ২৫৪ শতাংশ।

২০১০ সালে বৃটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকোর (বিএটিবিসি) শেয়ারের দাম ছিল ৭৪৯ টাকা। কোম্পানিটি ২০১০ সালে ৪৩০ শতাংশ, ২০১১ সালে ৪২০ শতাংশ, ২০১২ সালে ৫০০ শতাংশ এবং ২০১৩ সালে  ৬২০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। লভ্যাংশ বাদ দিলে শেয়ারের কস্টিং দাঁড়ায় ৫৬৫ টাকা। গত বৃহস্পতিবার শেয়ারটির দাম ছিল ২ হাজার ১৬৫ টাকা। এ হিসেবে প্রতি শেয়ারে মুনাফা এক হাজার ৫৯০ টাকা বা প্রায় ২১২ শতাংশ।

জ্বালানি খাতের মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ারের দাম ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর ২৩৯ টাকা ছিল। কোম্পানিটি নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি ২০১০ সালের জন্য ৫, ২০১১ সালের জন্য ৩০, ২১০১২ সালের জন্য ৩০ ও ২০১৩ সালের জন্য ২০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। এ সময়ে একটি শেয়ার বেড়ে ২ দশমিক ১২ টি হয়েছে। সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীর কস্টিং দাঁড়িয়েছে ৯২ টাকা। গত বৃহস্পতিবার শেয়ারটির দাম ছিল ২৮০ টাকা। এ হিসেবে মুনাফা দাঁড়ায় ১৮৮ টাকা বা ২০৪ শতাংশ।

এভাবে লিন্ডে বিডির বিনিয়োগকারীরা ১৮৮ শতাংশ, রেনেটা লিমিটেডের বিনিয়োগকারীরা ১৩২ শতাংশ,  ম্যারিকোতে ৮৫ শতাংশ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে ৮০ শতাংশ,  যমুনা অয়েলে ৭৯ শতাংশ, লাফার্জ সুরমা সিমেন্টে ৬৪ শতাংশ,  পদ্মা অয়েলে ২৮ শতাংশ, গ্রামীণফোনে ২৭ শতাংশ,  হাইডেলবার্গ সিমেন্ট ১৯ শতাংশ এবং  বার্জার পেইন্টসে ১২ শতাংশ মুনাফায় আছেন।