‘শিল্পায়ন ও নগরায়ন ছাড়া মধ্য আয়ের দেশ হওয়া সম্ভব নয়’

0
170
IGC1

IGC1লন্ডন স্কুল অফ ইকোনোমিক্স এন্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স (এলএসই) এর শিক্ষক এবং আইজিসির পরিচালক প্রফেসর রবিন বারজেস বলেন, শিল্পভিত্তিক পরিবর্তন, ব্যাপক নগরায়ন, রাষ্ট্রের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ সামগ্রিক পরিবর্তন বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনকে আরও ত্বরান্বিত করবে। এ সময় তিনি শিল্পায়ন ও নগরায়ন ছাড়া কখনো মধ্য আয়ের দেশ হওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন।

রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার (আইজিসি) এর কর্মকাণ্ডের দ্বিতীয় পর্যায়ের সূচনা উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি তার গবেষণার আলোকে এসব কথা বলেন।

আইজিসি এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ গভর্নেস স্টাডিজ (আইজিএস) ও ব্র্যাক ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট (বিডিআই) আয়োজিত আলোচনা সভার বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা: দক্ষিণ এশিয়ার অভিজ্ঞত’।

রবিন বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সোনালী সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খাতগুলোর দিকে নজর দিতে হবে। তাছাড়া নতুন নীতি তৈরিতে উন্নত বিশ্বগুলো উৎস হিসেবে কাজ করবে বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি মনে করেন, শিল্পখাতে বাংলাদেশ স্বয়ংসস্পূর্ণ নয়। কিন্তু এ দেশের জিডিপি অর্জনে শিল্পপণ্যের চেয়ে কৃষিপণ্য বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। প্রযুক্তিতে ও শ্রমশক্তিতে দক্ষতা বাড়লেই বাংলাদেশ মুক্ত আয়ের দেশে রুপান্তরিত হতে পারে।

রবিন তার গবেষণালিপি থেকে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে বলেন, এখনও বাংলাদেশের শিল্প কারখানাগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন আশানুরুপভাবে হচ্ছে না। শিল্পকারখানাগুলোয় কর্মরত নারীরাই এ দেশের জিডিপিতে বেশি অবদান রেখেছে। কিন্তু প্রবৃদ্ধি অর্জনে ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা এসব নারীরা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মক্ষেতে কাজ করে যাচ্ছে।

আলোচনা সভার সভাপতি ও জাতিসংঘ উন্নয়ন নীতি বিষয়ক কমিটির সদস্য সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, দেশের এত দৈব-দূর্বিপাকের মধ্যেও আমাদের প্রবৃদ্ধি অর্জন বেড়েছে। এই প্রবৃদ্ধি অর্জনে যে তিনটি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সেগুলো হলো ছোট উদ্যোক্তাদের অবদান, রেমিটেন্স ও পোশাক খাত।

তিনি বলেন, এডহকের নীতিমালা দিয়ে কাজ হবে না। দক্ষতা ও মজুরি বাড়লে পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পারবো। অন্যদিকে, দারিদ্রের হার কিভাবে কমানো যায় তা নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, উৎপাদনের উদ্যোগগুলো আরও বড় করতে হলে যে স্বনির্ভর যে দিনমজুর সে বেতন মজুরও হতে পারে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বড় উদ্যোক্তা  হবে। প্রযুক্তিতে আর শ্রমশক্তিতে দক্ষতা বাড়াতে হবে। আরেকটা বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধিতে এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে যথোপযুক্ত কিনা।

ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, আমাদেরকে মুক্ত আয়ের দেশে যেতে হলে শিল্পায়ন ও নগরায়ন বাড়াতে হবে। মাথাপিছু আয় বাড়াতে হলে তার বিকল্প কিছুই নেই। এত কম জমি নিয়েও আমরা নগরায়নের দিকে যাচ্ছি টেকসই পরিবেশ বজায় রেখে। হংকং, সিঙ্গাপুর ছাড়া পৃথিবীতে এত কম জমি নিয়ে এত কম জায়গাতে প্রবৃদ্ধি অর্জনের নজির আর কোথাও নেই। একদিকে, প্রযুক্তি নির্ভরতা অন্যদিকে পরিবেশকে টেকসই রেখে মাথাপিছু আয় বাড়ানোর চেষ্টা।

জাতিসংঘ উন্নয়ন নীতি বিষয়ক কমিটির সদস্য সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্তিত ছিলেন, এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও  দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সাবেক মহাপরিচালক, আইজিএস-বিডিআই এর নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমান, আইজিসির নির্বাহী পরিচালক এবং এলএসই’র সহযোগী অধ্যাপক ড. জোনাথন লিপ প্রমুখ।

এমআর/এএস