বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জীবন: টিআইবি

0
152
পানিদিবস

পানিদিবসপানির অপর নাম জীবন নয় বরং বিশুদ্ধ পানির নাম জীবন। পানি মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষার অন্যতম মৌলিক উপাদান।

সনাক চাঁদপুরের আয়োজনে ‘বিশ্ব পানি দিবস-২০১৪’ উপলক্ষে শনিবার সকাল ১১টায় সনাক, চাঁদপুর কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশের পানি সম্পদ রক্ষায় সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত কর’ এই স্লোগান নিয়ে এক আলোচনা হয়।

২০০২ সালে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সাধারণ সভায় পানির অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘পানিতে মানবাধিকার সকলকে তাদের ব্যক্তিগত ও গৃহস্থালী কাজে যথেষ্ট পরিমাণে, নিরাপদ, গ্রহণযোগ্য, সহজপ্রাপ্য এবং সক্ষমতার সঙ্গে পানি ব্যবহার করার অধিকার প্রদান করে’। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে পানির ব্যবহার ও চাহিদাও প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাগরের লবণাক্ত পানি মূল ভূখন্ডে প্রবেশের ফলে পৃথিবীর উপকূলীয় এলাকার একটি বিরাট অংশে মিঠা পানির অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। সবকিছু বিবেচনায় রেখে ২০১০ সালে জাতিসংঘ পানির অধিকার ও নিরাপদ ব্যবহার মানবাধিকার হিসাবে ঘোষণা করে। ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিওতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৯৩ সাল থেকে ২২ মার্চ  বিশ্ব পানি দিবস পালিত হয়ে আসছে। সনাকের সহ-সভাপতি কাজী শাহাদাতের সভাপতিত্বে এবং সনাক সদস্য ইসমত আরা সাফি বন্যার উপস্থাপনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সনাক, চাঁদপুরের সাবেক আহ্বায়ক ও সদস্য আলহাজ্ব প্রফেসর মনোহর আলী।

দিবসটির উপর ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন সনাক সদস্য ও দিবস উদযাপন উপ-কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌ. মো. দেলোয়ার হোসেন। ধারণাপত্রের উপর মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সনাক সদস্য আলহাজ্ব অধ্যাপক মোহাম্মদ হোসেন খান, ডা. পীযূষ কান্তি বড়ুয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক বাসুদেব মজুমদার, সূর্য্যের হাসি ক্লিনিকের ক্লিনিক ম্যানেজার শাহেদ রিয়াজ, মেরী স্টোপস ক্লিনিকের ফিল্ড সমন্ময়ক মো. কামরুল হাসান চৌধুরী, সিএনআরএস চাঁদপুরের ফিল্ড সমন্ময়ক রফিক-উর-রহমান, নবরূপ মানবিক উন্নয়ন সমাজকল্যাণ সংস্থা, চাঁদপুর এর নির্বাহী পরিচালক পি.এম.বিল্লাল, টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার মো. আমিনুল ইসলাম ও ইয়েস সদস্য মো. তারেক হাসান পাটওয়ারি।

বক্তাগণ বলেন, পানির অপর নাম জীবন নয় বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জীবন। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়া সত্ত্বেও বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি প্রবাহিত হয়ে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। অপরদিকে, শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে চাষাবাদে সমস্যা ও খাবার পানি সংকট দেখা দেয়। বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নির্ভর করে সেচের পানির প্রাপ্যতার উপর। কিন্তু ভূ-গর্ভস্থ পানির উৎস সমূহে বিভিন্ন ধরণের দূষণ যেমন- শিল্প ও কৃষি হতে উৎসারিত বর্জ্য, আর্সেনিকের উপস্থিতি ক্রমশ মানুষের পানি পানের এবং সেচের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এছাড়াও বক্তাগণ বলেন, মানুষের জীবন ধারনের মূল উপাদান হচ্ছে পানি। আবার দেখা যাচ্ছে এই পানির জন্যই আমরা বহু রোগে আক্রান্ত হই। বক্তাগণ আশা প্রকাশ করেন যে আজকের এই অলোচনার মাধ্যমে শ্রোতারা কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন এবং প্রত্যেকের ব্যক্তিগত জীবনে সঠিক চর্চার মাধ্যমে পানির অপব্যবহার রোধ করবেন।

‘বাংলাদেশের পানি সম্পদ রক্ষায় সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত কর’ এটাই ছিল আলোচনা সভার মূল কেন্দ্রবিন্দু। তাই তারা বলেন আমরা যার যার অবস্থান থেকে পানি দূষণ রোধে আরও বেশী সচেতন হবো এটাই হবে আমাদের আগামি দিনের অঙ্গীকার। অনুষ্ঠানের সভাপতি কাজী শাহাদাত তার বক্তব্যে বলেন, মানুষের জীবন জীবিকার জন্য বিশুদ্ধ পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানিকে দূষণমুক্ত রাখা আমাদের একান্ত কর্তব্য। পানির অপচয় রোধে আগে নিজেকে সচেতন হতে হবে। সচেতনতা বোধ, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে পানির অপচয় রোধ করা সম্ভব। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইয়েস ও ওয়াইপ্যাক গ্রুপের সদস্যসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ।

সাকি/