বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

0
83
rice
ফাইল ছবি

riceদিনাজপুরের ১৩ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়। বোরো ধান থেকে ফলন পাওয়া যাবে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫শ মেট্রিক টন চাল।

দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আনোয়ারুল আলম জানান, এবার বোরো মৌসুমে জেলার ১৩টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়নে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৭৯ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৬ লাখ ৮২ হাজার ৪০ মেট্রিক টন চাল। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৫৬ হেক্টরে উপশী এবং ১৬ হাজার ৮২৩ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান রোপন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

মৌসুমের শেষ সময় ১৭ মার্চ পর্যন্ত জেলায় লক্ষ্যমাত্রা অতিরিক্ত ১৭৩ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ অর্জিত হয়ে মোট ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫২ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়। এর মধ্যে ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৩০ হেক্টরে উপশী এবং ১৬ হাজার ৭২২ হেক্টরে হাইব্রিড জাতের বোরো আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টর উপশী ধান ৩ দশমিক ৮১ এবং হাইব্রিড ৪ দশমিক ৭৭ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অনুকূল আবহাওয়া ও কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ফলন উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জানান, খাদ্যের জেলা হিসেবে সারাদেশের পরিচিত দিনাজপুরে বাম্পার ইরি-বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্য কৃষি অধিদপ্তরের মাঠ কর্মী এবং কর্মকর্তারা সার্বক্ষনিক কৃষকদের অর্জিত ধান ক্ষেত্রে তদারকি চালিয়ে যাচ্ছে। সঠিক সময়ে সেচ দেওয়ার লক্ষ্যে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, ডিজেল, রাসায়নিক সার, কীটনাশকসহ অন্যান্য উপকরণ কৃষকদের সহজে হাতের কাছে পেতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে কৃষকেরা উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে তাদের ধান ক্ষেতের রক্ষনা-বেক্ষন করে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ চালিত গভীর ২ হাজার ২৮৫ ও ডিজেল চালিত ২৬টি, বিদ্যুৎ চালিত অগভীর ১০ হাজার ৮৮৬, ডিজেল চালিত ৫৬ হাজার ৫৩৫ এবং ললিত বাম্প বিদ্যুৎ চালিত ৫১ ও ডিজেল চালিত ১২৯টি সেচ যন্ত্রে কৃষকদের ব্যবহারে পরিচালিত হচ্ছে। চলতি বছর হাইব্রিড জাতের এসিআই-১ ও ২, জাগরণ, আলোড়ন, সোনার বাংলা, শক্তি, ময়না, টিয়া, তেজ, সেরা ও আফতাব ধান কৃষকেরা বেশি রোপন করেছে। অপরদিকে উপশী জাতের ব্রি ধান ২৮, ২৯, ৫০, ১৬, ইরাটন, মিনিকেট ও গোল্ডেন জাতের ধান চাষ হয়েছে।

বিরামপুর উপজেলার ঘাটপাড় এর কৃষক কান্ত কুমার কুণ্ড জানান, এবারে তিনি ৫ একর জমিতে বোরো চাষ করেছে। এর মধ্যে ২ একর জমিতে হাইব্রিড জাতের এসিআই ও জাগরণ ধান রোপন করেছে। অপর ৩ একর জমিতে ব্রি ধান, ২৮, ১৬ ও মিনিকেট ধান আবাদ করেছে। গত বছরও তিনি একই পরিমাণ জমিতে বোরো ধান করেছিল। গত বছরের তুলনায় এবারে ধানের ফলন ভালো পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এবারে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পেয়ে ধান ক্ষেতে সেচের সমস্যা হয়নি। সার ও কীটনাশক সহজেই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। একই কথা বলেন, বিরামপুর উপজেলার মকন্দপুর গ্রামের কৃষক সালাম হোসেন। তিনি জানান, ৪ একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। সার, কীটনাশক সরবরাহে কোন ব্যাঘাত না থাকায় সহজেই এবারে কৃষকেরা মনের আনন্দে ধান চাষ করছে।

এমএইচএম/সাকি