বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদী মৃতপ্রায়

0
63
RIVER POLLUTION

RIVER POLLUTION২২ মার্চ বিশ্ব পানি দিবসকে সামনে রেখে ২১ মার্চ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে পবা কর্তৃক আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী মৃতপ্রায় বলে উক্ত অভিমত ব্যক্ত করেন এবং নদী রক্ষায় দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) বিগত প্রায় এক বছর যাবৎ বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণমাত্রা পরীক্ষা ও পরিবীক্ষণসহ নদী দখলের স্বরূপ পর্যবেক্ষণ করছে। পরিক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফল রীতিমত আতংকজনক। নদীর পানিতে যেখানে প্রতি লিটারে ৫ মিলিগ্রাম বা তদুর্ধ্ব দ্রবীভুত অক্সিজেনের উপস্থিতি মৎস চাষ, সেচকাজ, শিল্পকারখানা ও বিনোদনমূলক কাজে এবং প্রতি লিটারে ৬ মিলিগ্রাম বা তদুর্ধ্ব দ্রবিভূত অক্সিজেনের উপস্থিতি কেবল জীবানুমুক্তকরণের মাধ্যমে সরবরাহের জন্য সুপেয় পানির উৎস হিসেবে ব্যবহার উপযোগী সেখানে প্রাপ্ত ফলাফল পর্যলোচনায় দেখা যায় যে, বর্ষা মৌসুমে বিশেষ করে জুলাই, আগষ্ট ও সেপ্টেম্বর/১৩ মাসেও নদীর বিভিন্ন এলাকায় দ্রবিভূত অক্সিজেনের পরিমাণ শূণ্যের কোঠায়। শিল্পবর্জ্য, রাসায়নিক বর্জ্য, পয়:বর্জ্য, গৃহস্থালী বর্জ্য ও নৌযানের বর্জ্যরে দূষণের পাশাপাশি ভমিদস্যুদের বেপরোপা ভরাট ও দখলের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারিদিকের নদীগুলো এখন মৃত প্রায়। জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্ববাহী ঢাকার চারপার্শ্বের নদীসহ দেশের সকল নদী রক্ষায় সরকারের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

নদী রক্ষায় করণীয় হিসেবে গোলটেবিল বৈঠক থেকে নিম্নোক্ত দাবি জানানো হয় সেগুলো হলো, সিএস রের্কড অনুযায়ী নদীগুলোর সিমানা নির্ধারণ করা, অবৈধ স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা, নদী নিয়মিত খনন করা, আঞ্চলিক নদীগুলোর পানি প্রাপ্তির লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা, পয়ঃবর্জ্য পরিশোনাগার স্থাপন; গৃহস্থালী বর্জ্য পানি প্রবাহে ফেলা থেকে বিরত থাকা; ট্যানারীগুলো জরুরী ভিত্তিতে স্থানান্তর এবং বর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপন ও বর্জ্য পরিশোধন করা; শিল্পকারখানায় বর্জ্য পরিশোনাগার স্থাপন এবং নিয়মিত তা পরিচালনা করা; নৌযানের ডিজাইনে বর্জ্য সংরক্ষণ বা ধারণ করার স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলা; বিআইডব্লিউ কর্তৃক নৌযানের বর্জ্য সংগ্রহকরণ ও তা পরিশোনপূর্বক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ; নৌযানের বর্জ্য ও তেল নদীতে ফেলা থেকে বিরত থাকা এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করা।

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধের আলোকে সূচনা বক্তব্য রাখেন পবার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো: আবদুস সোবহান। বৈঠকে বক্তব্য রাখেন আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম এম সফিউল্লাহ, রাজউকের নির্বাহী মেজিস্ট্রেট রোকন-উদ-দৌলা, ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের সাবেক সভাপতি শফিউদ্দিন সরকার, প্রথম আলোর যুগ্ম-সম্পাদক সোহরাব হোসেন, লেখক মোরশেদ শফিউল হাসান, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিআইডব্লিউটিএর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের মো: আবুল বাসার, নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন প্রমুখ।