পদার্থবিদ্যায় পাঁচ প্রাণীর পাণ্ডিত্য

0
71
cockroach

cockroachবছরের পর বছর ধরে হাজারো বিজ্ঞানীর অক্লান্ত পরিশ্রমের পর মানুষ দক্ষতা অর্জন করেছে পদার্থবিদ্যায়। কিন্তু বিজ্ঞানের এই মৌলিক শাখায় দখল শুধু মানুষের নয়, বরং অন্যান্য জীবেরও যথেষ্ট পাণ্ডিত্য রয়েছে। তারা সচেতনভাবেই পদার্থবিদ্যার সূত্র মেনে চলে। এমনকি নিজেদের প্রয়োজনে সফলভাবে প্রয়োগও ঘটায় এসব প্রাকৃতিক নীতির। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পদার্থবিদ্যায় এইসব প্রাণীর এমন দক্ষতা দেখে তাজ্জব বনে গেছেন খোদ পদার্থবিদরা। ইন্টারনেট অবলম্বনে এমন পাঁচ প্রাণীর পাণ্ডিত্য পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করছে অর্থসূচক :

আরশোলার মহাকর্ষ বিদ্যা :

উঁচুস্থান থেকে পদস্খলনের ফলে পড়তে গিয়েও বেঁচে যায় আরশোলা। এই জন্য পোকাটি মহাকর্ষ বিদ্যাকেই ব্যবহার করে থাকে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মাধ্যকর্ষণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কেন্দ্রমুখী বলের এমন সফল প্রয়োগ হয়তো চোখে না দেখলে বিশ্বাস করাটাই দায় হতে পারে।

বোলতার সৌর শক্তি বিদ্যা :

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, ভেসপা অরিয়েন্টাস নামের এক বিশেষ বোলতা সরাসরি সূর্য থকে শক্তি উৎপাদন করতে পারে। এই প্রজাতির বোলতার ত্বকে বিশেষ ধরনের সোলার প্যানেল রয়েছে যা সূর্যের তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। তবে এই শক্তি তারা শুধুমাত্র পাখা সঞ্চালনের কাজে ব্যবহার করে থাকে।

মাকড়সার স্থির বিদ্যুৎ বিদ্যা :

স্থির বিদ্যুতের সফল ব্যবহারে অন্য যে কারো চেয়ে এগিয়ে মাকড়সা। এমনকি ভ্যান ডার ওয়ালস নামের বিশেষ ধরনের শক্তি ব্যবহারে যথেষ্ট দক্ষতা রয়েছে এই পোকাটির। যার সাহায্যে জাল বোনা থেকে শুরু করে শিকার ধরা পর্যন্ত দৈনন্দিন কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করে মাকড়সা।

কুকুরের চৌম্বক বিদ্যা :

কমবেশি সব প্রাণীই পৃথিবীর চৌম্বকত্বকে ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু কুকুরের চৌম্বক বিদ্যার ধারণাটি অপেক্ষাকৃত নতুন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, অসময়ে কুকুরের চেঁচিয়ে ওঠার পেছনে এই চৌম্বক বিদ্যায়ই দায়ী। বিজ্ঞানীদের মতে, যখনই পৃথিবীর চৌম্বকত্বের সাথে কুকুর সংযোগ হারিয়ে ফেলে তখনই সে চেঁচিয়ে ওঠে। এছাড়াও মলত্যাগের মতো প্রাকৃতিক কাজ সারতেও চৌম্বকবিদ্যা মেনে চলে এই প্রাণী।

হাতির শব্দ বিদ্যা :

টেলিযোগাযোগে যথেষ্ট দক্ষতা রয়েছে হাতির। এ ক্ষেত্রে মাধ্যম হলো মাটি এবং অনুষঙ্গ হিসেবে পা ব্যবহার করে এই প্রাণী। তবে প্রেরণকৃত শব্দের কম্পাঙ্ক মানুষের শ্রুতি সীমার উপরে থাকায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা আমরা টের পাই না। এই পদ্ধতিতে হাতি নিজের আধিপত্য ঘোষণা পাশাপাশি বিপদে পড়লে সাহায্যের আবেদনও পাঠিয়ে থাকে।