ঘুরে আসুন পরিকুণ্ড জলপ্রপাত

0
98
Madobkundo_Tour_

Madobkundo_Tour_পরিকুণ্ড জলপ্রপাত নামটি অনেকের কাছেই অপরিচিত বলে মনে হতে পারে। মৌলভীবাজারের মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের নাম আমরা সবাই কমবেশি শুনেছি এবং অনেকে এই জায়গায় গিয়েছিও। তবে চেনা জানা না থাকায় আমরা অনেকেই মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের পাশেই বনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা বিস্ময়কর একটি ঝর্নার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হয়েছি।

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত থেকে খুব কাছে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিটের হাঁটা দূরত্বে পরিকুণ্ড জলপ্রপাতটি অবস্থিত গভীর বন ও তেমন প্রচারণা না থাকায় এই স্থানটিতে স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের খুব বেশি আনাগোনা থাকে না। মাধবকুণ্ড থেকে পরিকুণ্ড যাওয়ার একমাত্র উপায় পায়ে হাঁটা।  যাওয়ার পথটি পাথরময় এবং সেই সাথে রয়েছে পানির প্রবাহ। পথে তেমন কোনো ভয় নেই তবে হাটার সময় একটু অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। কেননা পানিতে ভিজে পায়ের নিচের পাথরগুলো পিচ্ছিল হয়ে থাকে।

১৫০ ফুট উচু খাড়া পাহাড় হতে এই ঝর্নার পানি শো শো শব্দে নিচের দিকে পতিত হচ্ছে। জল ও পাথরের সংঘর্ষে জলকনাগুলো উড়ে গিয়ে মৃদু কুয়াশার সৃষ্টি করে। অসংখ্য প্রজাতির গাছপালা দ্বারা ঝর্নাটির চারপাশ আচ্ছাদিত হয়ে আছে। এ যেন এক অপরুপ সবুজের মহাসমারোহ। সেই সাথে পাখির কিচিরমিচির বনের নিস্তব্ধতাকে জাগিয়ে রাখে সর্বক্ষণ। ঝর্নার অপরূপ দৃশ্য অবলোকন করার জন্য প্রাকৃতিক আসন হিসেবে রয়েছে অসংখ্য পাথর। পাথরের ওপর বসে ঝর্নার দিকে চোখ রাখলে মনে হবে ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখছেন। অনেকে নিজেকে সামলে রাখতে না পেরে নেমে পড়েন ঝর্নার পানিতে নিজের দেহ-মন-প্রাণ জুড়িয়ে নিতে।

যাতায়াত ব্যবস্থাঃ

ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন, বিমান সকল পথেই মৌলভীবাজার যাওয়া যায়। ঢাকার সায়েদাবাদ, কমলাপুর, কল্যাণপুরসহ দেশের যে সকল স্থান থেকে মৌলভীবাজার জেলার বাস ছাড়ে সেখান থেকে মৌলভীবাজারের বাসে করে কুলাউড়া নামতে হয়।

ট্রেনে করে যেতে হলে ঢাকার কমলাপুর থেকে সিলেট রুটে চলাচলকারী ট্রেনে করে কুলাউড়া স্টেশনে নামতে হয়।

আকাশপথে যেতে হলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ফ্লাইট নং 4H-0511 এ করে সিলেট গিয়ে সেখান থেকে পাবলিক বাসে করে মৌলভীবাজার আসতে হয়। মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, রবি সপ্তাহের এই চার দিন ঢাকা-সিলেট রুটে বিমানে করে যাওয়া যায়।

কুলাউড়া থেকে সিএনজি অটোরিক্সায় করে সরাসরি মাধবকুণ্ড যাওয়া যায় । এছাড়া পাবলিক বাসে করেও যাওয়া যায়। বাসে করে যেতে হলে কাঠালতলী বাজারে নেমে সেখান থেকে আবার সিএনজি অটোরিক্সায় করে মাধবকুণ্ড যেতে হয় । মাধবকুণ্ড পৌছে নির্ধারিত প্রবেশ টিকেট কেটে মাধবকুণ্ড পর্যটন এরিয়ায় প্রবেশ করতে হয়। পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ করে ঝর্নার দিকে যে রাস্তাটি রয়েছে সেই রাস্তা ধরে কিছুক্ষণ হাটলে প্রথমে হাতের বাঁয়ে একটি শিব মন্দির চোখে পড়বে। শিব মন্দিরটির ঠিক বিপরীত দিকের রাস্তার পাশ দিয়ে একটি সিড়ি রয়েছে। সেই সিড়ি ধরে নিচে নামলে দেখা মিলবে মাধবকুণ্ড ঝর্না থেকে বয়ে আসা পানির ছড়ার। সেই ছড়াটির সোজাসুজি পাথর বিছানো পথ ধরে ১০ থেকে ১২ মিনিট হাঁটলেই জঙ্গলের মধ্যে দেখা মিলবে স্বপ্নময় পরিকুণ্ড ঝর্নার।

খাওয়া-দাওয়াঃ

ভ্রমণে বের হলে অধিকাংশ মানুষই খাওয়া দাওয়ার কথা ভুলে যায়। তারপরেও দিনশেষে কিছু একটা পেটে দিতে হয়। মাধবকুণ্ড ঝর্নার পাশে পর্যটন কর্পোরেশনের একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। রেস্টুরেন্টটিতে প্রতি বেলায় জনপ্রতি খেতে ২৫০/৩০০ টাকার মতো খরচ হয়। খাওয়ার খরচ একটু কমাতে চাইলে যেতে হবে কাঁঠালতলী বাজারে।

থাকার ব্যবস্থাঃ

পর্যটকদের থাকার জন্য মাধবকুণ্ডে একটি সরকারি বিশ্রামাগার রয়েছে। ২ রুম বিশিষ্ট এই বিশ্রামাগারটিতে রাত্রি যাপন করতে হলে কমপক্ষে ৭ থেকে ১০ দিন আগে জেলা পরিষদ থেকে বুকিং দিতে হয়।

একে/এএস