বন ধ্বংসের ফলে হুমকির মুখে পরিবেশ

0
658
Deforestation

Deforestationবন ধ্বংসের ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। দেশে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মোট ভূমির ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা অপরিহার্য হলেও ভীষণ দুঃখের বিষয় এখন তা একেবারে কমে ৭ থেকে ৮ শতাংশে পরিণত হয়েছে। এর একটাই কারণ অবাধে বনভূমি নিধন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বন দিবস। এ বছর বন দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘বন পরিবীক্ষণ’।

বেসরকারিভাবে এক জরিপে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে দেশে বনভূমির পরিমাণ  কমে তিন ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। যদিও বাংলাদেশ সরকার বলেছে ২০২০ সালের মধ্যে বনভূমির পরিমাণ ২০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এখন শুধু তা বাস্তবায়নের অপেক্ষা কেবল।

এর আগে ১৯৪৭ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত অঞ্চলভিত্তিক বন বিভাগ ছিল বনরক্ষক এর অধীনে। পরবর্তিতে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তা প্রধান বনরক্ষকের অধীনে ছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেলে সংরক্ষিত ও প্রস্তাবিত বনগুলো বাংলাদেশ বন বিভাগের আওতাধীন হয়ে যায়। ১৯৭১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বন বিভাগ কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন ছিল। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। একইসাথে বাংলাদেশ বন বিভাগকে এই মন্ত্রণালয়ের কারিগরি শাখা হিসেবে এর অধীন করা হয় এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন কার্যকর করা হয়।

দিন দিন মানুষের অসচেতনতা আর ধ্বংসাত্নক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে বনভূমি। কিছু কিছু গাছ ব্যবসায়ী টাকার বিনিময়ে নির্বিচারে কর্তন করছে গাছ। আবার একদল পয়সাওয়ালা বনভূমি উজাড় করে শিল্প কারখানা গড়ে তুলছে। কেউ গাছপালা কেটে বাড়িঘর নির্মাণ করছে। এছাড়া তামাক তৈরিতে বেশি পরিমাণে নিধন করা হচ্ছে বনের গাছ। নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে বনভূমি এখন হুমকির মুখে আর হুমকির মুখে দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বনভূমি নিধনে বন বিভাগের লোকজনরাই দায়ী। বনবিভাগের লোকজন অল্প টাকার বিনিময়ে অবাধে বিক্রি করছে বনের গাছ। মূলত বনবিভাগের কর্মকর্তারাই বনভূমি ধ্বংসের সাথে জড়িত। এছাড়া তারা দেখিয়েছে, বাংলাদেশে ২ লাখ ৭০ হাজার একর বনভূমি এখন দখল হয়ে গেছে।

এদিকে, বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে এখন বনভূমির পরিমাণ দেশের মোট ভূমির প্রায় ১৮ শতাংশ। ৬০ এর দশকে বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ ছিল ২৪ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তীতে তা কমে এসে দাঁড়ায় ১৯ শতাংশে। ৮০-৯০ এর দশকে তা আরও কমে দাঁড়ায় ১৬ শতাংশে।

বিশ্বব্যাংক ও ডিএফআইডি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এখন বনভূমির পরিমাণ দেশের মোট ভূমির প্রায় ৭ শতাংশ।

এছাড়াও বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, দেশে যে হারে গাছপালা ধ্বংস করা হচ্ছে সেই হারে কিন্তু গাছ রোপন করা হচ্ছে না। আর এর ফলে নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। এদিকে দেশে দিন দিন বাড়ছে জনসংখ্যার হার। পরিকল্পনাহীন জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাড়ছে অপরিকল্পিত নগরায়ন। গাছপালা ও জঙ্গল অবাধে নিধন করে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য বাড়িঘর। দিন দিন বনভূমি ধ্বংস আর জনসংখ্যার হার বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে এখন  বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

এএস