শ্রমবাজার খুলছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে

0
81
Labour

Labourআড়াই বছর পর আবার উন্মুক্ত হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার। এ লক্ষ্যে আগামি মাসের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশের সাথে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করবে দেশটির সরকার। যাতে শ্রমিক রপ্তানির পদ্ধতি, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার দু’দিনের সফর শেষে আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. শওকত হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করে এ কথা জানান বলে সাংবাদিকদের অবহিত করেন তিনি। এ সময় আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তিন প্রতিনিধি নাসের আল জাবি, খালেদ আল খাজরাজী ও সামি আল সাহাদ উপস্থিত ছিলেন।

ড. শওকত হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন খাতে দক্ষ জনশক্তি নিতে আগ্রহী মধ্য প্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাত। আর এ লক্ষ্যে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসে। তারা আমাদের জনশক্তি রপ্তানি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কার্যক্রম ও জনশক্তিদের প্রশিক্ষণে গঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেছেন। তারা সরকার কর্তৃক জনশক্তিদের প্রশিক্ষণের ধরন দেখে সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছে”।

তিনি আরও বলেন, প্রতিনিধি দল দেশে গিয়ে তাদের পররাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশের প্রস্তুতির বিষয়ে অবহিত করবেন। আর মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে এপ্রিল মাসের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

এর আগে আরব আমিরাত সফর শেষে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আরব আমিরাতের সরকার আমাদের দেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় দেশটিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করবো।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎতম শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে বর্তমানে ২০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশি শ্রমিকদের অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ তুলে ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দেয় দেশটি। ২০০৭ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে ৩০ হাজার দেশটি যেতে পারতো মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটিতে। কিন্তু এর পর থেকেই তা কমে প্রতিমাসে ২ থেকে ৩ হাজারের মধ্যে চলে আসে। আর সবচেযে বেশি কমে ২০১৩ সালে। এ বছর মাত্র ১৪ হাজার ৬২৪ জন শ্রমিক কাজ নিয়ে যেতে পেরেছেন দেশটি। যা শুধু ব্যক্তি উদ্যেগে আত্মীয়-স্বজনের হাত ধরে।

এইউএন/এআর