রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে বেসরকারি অংশীদারিত্ব; পক্ষে বিপক্ষে মত

0
120

bank_bd_governmentরাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ইঙ্গিত নিয়ে অর্থনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ সরকারি ব্যাংকগুলোকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিলেও বিপক্ষেও রয়েছে শক্ত মত।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত যখন বর্তমান সরকারের আমলেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ানো হবে বলে আশ্বাসবাণী শোনান তখন তিনিও এর পেছনে যুক্তি তুলে ধরেন।

মুহিত তার যুক্তিতে বলেন, বর্তমানে এমনিতেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সম্পূর্ণ বাণিজ্যিকভাবে চলছে। সরকার এতে কোনো খবরদারি করে না। সেখানে কেবল সরকারি বিধিমালা ও নিয়মনীতি মানা হয়।

মন্ত্রীর মতে এই অবস্থায় খাতটির সেবার মান বাড়াতে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়াই ভালো।

তবে মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবুল বারাকাত প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে এর বিরোধিতাই করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ালে আগামি ৫ বছরে গুটি কতক লোক ফুলে ফেঁপে বড় হবে। আর এরাই এক সময় ব্যাংকের মালিকানা দাবি করবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি গ্রাহকরা হবে ক্ষতিগ্রস্ত।

জনতা ব্যাংক চেয়ারম্যান এ সময় অর্থমন্ত্রীর দেওয়া বেসকারি করণের আশ্বাস থেকে মন্ত্রীকে সরে আসার আহ্বানও জানান। বারাকাত এসময়  বেসরকারি করণের অর্থমন্ত্রী এমন ঘোষণাকে আইএমএফের প্রেসক্রিপশন হিসেবেও উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অর্থনীতিবিদ ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদও বেসরকারি খাতে পুরো ছেড়ে না দেওয়ারই পক্ষে। বিশেষায়িত বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের এ ব্যাংকটির শেয়ার বাজারে অংশীদারিত্ব আছে কিন্তু তাতে ব্যাংকটির কোনো উন্নয়ন হয়নি।

সালেহ উদ্দিন অর্থসূচককে জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে সরকারের নিয়ন্ত্রণই বেশি। এ কারণে এখানে অনিয়ম ও দূনীতির মাত্রাটাও বেশি। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলো যদি ব্যাংকিং কোম্পানি আইন অনুসারে চলতো তাহলে এ ধরণের বেসরকারি করণের প্রয়োজন পড়তো না। বেসরকারি অংশিদারিত্ব বাড়ালেই যে ব্যাংকের সেবা ও দক্ষতা বাড়বে এমন নয়। এর ফলে ব্যাংকগুলোর গুণগত মানেরও কোন পরিবর্তন হবে না বলে তিনি মনে করেন।

তিনি এ জন্য বেসরকারি করণ না করে বরং ব্যাংকগুলোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমানো ও সুশাসন নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

এদিকে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট  অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মুনসুর  অর্থমন্ত্রীর এমন ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। অর্থসূচককে তিনি বলেন, এটা অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। এর ফলে ব্যাংকগুলোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমবে। আর শেয়ার হোল্ডাররা নিজেরাই পরিচালক ঠিক করবেন তাই ব্যাংকের অনিয়ম দুর্নীতি কম হবে এবং ব্যাংকগুলো ভালো লাভ করবে বলে তিনি মনে করেন।

আহসান এইচ মুনসুর  বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব যেসব ব্যাংক লাভ করছে তারা তাদের লাভের অংশ সরকারকে দিচ্ছে। এর ফলে জনগণ এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই যারা এর বিরোধীতা করছে তারাই এসব ব্যাংক থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বেসরকারি অংশিদারিত্ব বাড়ালে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব এ ব্যাংকগুলোর অনিয়ম দুর্নীতি কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

তার মতে ক্ষেত্রে ব্যক্তি খাতে ৫১ শতাংশ শেয়ার ছেড়ে দিলেই ব্যাংক খাত এগিয়ে যাবে।

তবে সালেহ উদ্দিন তেমনটি মনে করেন না। তিনি মনে করেন ব্যক্তি খাতে ৫১ শতাংশ দিয়ে দেওয়া সম্ভব না। সেটা দিলে কেবল ব্যাংক ও শেয়ার হোল্ডারাই বেশি  লাভবান হবে। আর এ জন্যই তিনি এখনই বেসরকারি অংশিদারিত্ব না বাড়নোর পরামর্শ দেন।