‘পানি বৈষম্য নিয়ে বিশ্বে বড় যুদ্ধ হতে পারে’

0
64
water

waterপানি বন্টন বৈষম্যের কারণে আগামিতে বিশ্বে বড় ধরনের যুদ্ধ হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘মুক্তচিন্তার নীতিমালা: মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং পানি ও স্যানিটেশনের অধিকার’ বইয়ের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে এ আশংকা প্রকাশ করেন তারা। ‘আর্টিকেল ১৯’ নামের একটি সংগঠন এ বইটি প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে ‘আর্টিকেল ১৯’ বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক তাহমিনা রহমান বলেন, পানির মৌলিক অধিকার এবং সুষ্ঠু বন্টন থেকে বিশ্বের প্রায় একশ কোটি মানুষ বঞ্চিত।

পানি নিয়ে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ যুদ্ধে বাংলাদেশ জয়লাভ করলে আগামি ৫০ বছরে বাংলাদেশ ধনী দেশের তালিকায় স্থান
পাবে।

পানিকে কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পানি নিয়ে সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন করা না হলে জনগণের এ অধিকার নিশ্চিত করা যাবে না।

কোস্টট্রাস্ট এর নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ঢাকা শহরে পানি ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। বিশ্বব্যাপী পানি বিনামূল্যে
দেওয়া হলেও বাংলাদেশের মানুষ বিনামূল্যে পানি পায় না। ঢাকা শহরে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার মানুষ কাজের সন্ধানে আসছে। প্রতি বর্গমিটারে প্রায় সাড়ে আটাশ হাজার মানুষ বাস করে। কিন্তু তারা পানি অধিকার বঞ্চিত।

তিনি বলেন, আগামিতে বিশ্বের মধ্যে পানি নিয়ে বড় ধরনের যুদ্ধ বাধবে। তবে বাংলাদেশে যে অপার সম্ভাবনা রয়েছে তাতে নীতিমালা সংশোধন ও পদক্ষেপ নিলে জয়লাভ করতে পারবে।

আইনজীবী ইকবাল করিম বলেন, আইন ও নীতি এক নয়। পানি মৌলিক অধিকার হলেও নীতির কারণে সাধারণ মানুষ মৌলিক এ অধিকার থেকে বঞ্চিত। সরকারের কারণেও জনগণ এ অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বাহরীন খান বলেন, আগামির যুদ্ধ হবে পানি নিয়ে। বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫৪টি ও নেপালের ৩টিসহ মোট ৫৭টি নদীর পানি চুক্তি থাকলেও সে অনুসারে আমরা পানি পাচ্ছি না। নীতিমালা সংশোধন ও পদক্ষেপ না নিলে মৌলিক এ অধিকার থেকে আমরা অবশ্যই বঞ্চিত হব। এ সময় পানি, মত প্রকাশ, স্যানিটেশন অধিকার আদায়ে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করা ছাড়া অধিকার আদায় সম্ভব নয় বলেও বক্তারা মত দেন। অনুষ্ঠানে পানি, স্যানিটেশন নিয়ে কাজ করে এমন বেসরকারি সংস্থার বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

জেইউ/এএস