নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যপুস্তক বিতরণে অনিশ্চয়তা

মুদ্রণশিল্প সমিতির ধর্মঘট অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
33
ধর্মঘটের কারণে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। সংগৃহীত ছবি।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) মুদ্রণশিল্পের উপর নতুন শর্ত আরোপ করার প্রতিবাদে ৩ দফা দাবিতে ২য় দিনের মতোও ধর্মঘট পালন করছে মুদ্রণশিল্প সমিতি। এতে আজ বুধবারও প্রায় ৩০০ ছাপাখানায় বই ছাপার কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, মুদ্রণ কাজের সময় বৃদ্ধি, বই র‌্যাপিংয়ের শর্ত বাতিল এবং যোগ্য ও অভিজ্ঞদের কাজ দেওয়ার দাবিতে ধর্মঘট করছে মুদ্রণ শিল্প সমিতি।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার মুদ্রণশিল্প সমিতির সঙ্গে এনসিটিবির আলোচনা হলেও সমস্যার কোন সমাধান না হওয়ায় অনিশ্চয়তা আরো বাড়ছে। তবে এনসিটিবি বলছে, আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই সমস্যার সমাধান করা হবে।

পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুত করতে কাজ করছে মুদ্রণশিল্পীরা। সংগৃহীত ছবি।

ধর্মঘটের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে মুদ্রণশিল্প সমিতির সভাপতি তোফায়েল খান অর্থসূচককে বলেন, বই মুদ্রণের কার্যাদেশ হওয়ার ৪২ দিনের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং ৯৪ দিনের মধ্যে শতভাগ বই এনসিটিবির কাছে হস্তান্তর করার কথা। কিন্তু বিভিন্ন কারণে কার্যাদেশ দিতে এনসিটিবি ৩৪ দিন বিলম্ব করে। এছাড়া ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যাদেশের সময় ধরতে কর্তৃপক্ষ মুদ্রণশিল্প সমিতিকে অনুরোধ জানায়। কিন্তু গত ১৭ সেপ্টেম্বর চিঠির মাধ্যমে জানানো হয় কার্যাদেশ ধরতে হবে ৬ সেপ্টেম্বর থেকে। একই সঙ্গে কাজের অগ্রগতি জানতে চায় এনসিটিবি।

তিনি আরও বলেন, এনসিটিবি বই হস্তান্তরের সময় র‌্যাপিং পেপারে বান্ডিল করার শর্ত জুড়ে দেয়। যা খুবই কষ্টকর এবং সময় সাপেক্ষ। তাই আমরা এসসিটিবির এমন স্বেচ্ছাচারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হয়েছি।

তিনি বলেন, টেন্ডারের মাধ্যমে আমরা কাজ পেয়েছি। অনেকেই চাচ্ছেন, দেশি প্রতিষ্ঠানের কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করাতে। যেন দেশের ছাপাখানার সক্ষমতা নিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠান প্রশ্ন তুলতে পারে। আমরা তা হতে দিতে পারিনা। তাই মুদ্রণ কাজের সময় বৃদ্ধি, র‌্যাপিংয়ের শর্ত বাতিল এনসিটিবির কালো তালিকাভুক্ত ছাপাকারদের বাতিল করে যোগ্য ও অভিজ্ঞদের কাজ দেওয়ার দাবি জানিয়েছি।

দাবি মেনে না নেওয়া হলে ধর্মঘটও প্রত্যাহার করা হবেনা বলে জানান তিনি।

তবে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা মনে করেন, এটি খুব ছোট একটি ব্যাপার। তিনি অর্থসূচককে বলেন, আমরা মুদ্রণশিল্প সমিতির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুতই এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছি।

অর্থসূচক/রাসেল/ কে এম