রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্তরা সহায়তার আরও ৫০ হাজার টাকা পাচ্ছেন

0
53

rana_plazaরানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্থ কর্মীরা ক্ষতিপূরণ হিসেবে আরও ৫০ হাজার টাকা করে পাচ্ছে। যেটা চলতি বছরের ২৮ মার্চ ও ১৫ এপ্রিল দেওয়া হবে। ‘রানাপ্লাজা ভোলেন্টারি কম্পেন্সেশন ট্রাস্ট’ ক্ষতিগ্রস্থ কর্মীদের এই অর্থ প্রদান করেছে বলে অর্থসূচককে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশে ইন্ডাস্ট্রি অল গ্লোবাল ইউনিয়নের মহাসচিব রায় রমেশ চন্দ্র।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), ইন্ডাস্ট্রি অলসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডও সেচ্চাসেবী প্রতিষ্ঠানের গঠিত তহবিল থেকে রানা প্লাজার ৩ হাজার ৬৩৯ কর্মীকে এই অর্থ দেওয়া হবে। তবে আগে ২৮ মার্চ নিউ ওয়েভ বটম লিমিটেড নামের কারখানাটির ৫৮০ জন কর্মীকে এই অর্থ প্রদান করা হবে। আর ১৫ এপ্রিল বাকী চার কারখানার কর্মীদের এই অর্থ প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি। ১৮ মার্চ মঙ্গলবার সন্ধ্যায়  ফান্ডের কর্মকর্তারা এক টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

রমেশ চন্দ্র জানান, এর আগে বিকাশের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ কর্মীদের ৪৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

রানা প্লাজার ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো এই তহবিলে সহায়তা করেছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, রানা প্লাজা থেকে পোশাক কেনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তহবিলে সহায়তার কথা আগে বলা হয়েছে। তারা আগেভাগে এই তহবিলে সহায়তা করবে বলেও কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।রানা প্লাজা বিক্ষোব

এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি রানাপ্লাজার ক্ষতিগ্রস্থ কর্মীদের ক্ষতিপূরণের জন্য ৪ কোটি ডলারের তহবিল গঠন করেছে জানায় ইন্ডাস্ট্রি অল গ্লোবাল ইউনিয়ন।যার সমুদয় অর্থ রানা প্লাজার কর্মীদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

হোটেল লা ভিঞ্চিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সংগঠনটির মহাসচিব ইওর্কি রায়না বলেছিলেন, রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতে পরিবর্তন এসেছে। বিশ্ব মিডিয়ায় তোলপাড় এই খাতকে আরও বেশি আলোচিত করেছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার উদ্যোগে অন্যান্য প্রতষ্ঠান ও  তাদের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। আর গত ডিসেস্বর মাসে ৪ কোটি মার্কিন ডলারের তহবিল গঠন স্বাক্ষরিত হয় বলে জানান তিনি।

আর রানা প্লাজার ক্রেতারা তাদের কমিটমেন্ট অনুযায়ী জরুরীভাবে তহবিলে অর্থ জমা দেবেন বলে জানান তিনি। যেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, রানা প্লাজার পাঁচটি কারখানা থেকে প্রাইমার্কসহ ওয়ালমার্ট, টেক্সম্যান, পিডব্লিউটি গ্রুপ, এনকেডি, ম্যাংগো, জেসিপেনি, গোল্ডেনপি ফেনিং, এলপিপি, ইসেনজা, কেয়ারফোর, সিঅ্যান্ডএ, ক্যাটোকোপ, চিল্ড্রেন প্লেস, বেনিটোন, আদিয়ার, আউচান, ড্রেসহার্ন, মেনিফাটুরা করোনা, প্রিমিয়ার ক্লোথিং, কিডস্ ফ্যাশন, স্টোর-২১, মাস্কট, মাটালান, এল কোর্টে ইনগিস, কিক, লবলো, বন মারচে, ক্যামিউ এর মতো মোট ২৯ কোম্পানি পোশাক কিনতো।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের অবস্থিত রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ১ হাজার ১২৯ জন নিহত হয়। এই ঘটনায় আহত হয় আরও ২ হজার ৫০০ মানুষ। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই রানা প্লাজায় বিভিন্ন পোশাক উৎপাদক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

তবে ওই ভয়াবহ ঘটনাটির প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও মেলেনি কাঙ্খিত ও প্রতিশ্রুত সহায়তা। মানবেতর জীবন যাপন করছে এই অসহায় আহত ও স্বজন হারানো শ্রমিক পরিবার। আহত অনেকের এখনও চিকিৎসার প্রয়োজন।

এক হিসাবে দেখা যায় গত একদশকে বাংলাদেশে পোশাক কারখানা ধস, কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনায় প্রায় ১৮ শ শ্রমিক নিহত হয়েছে। অথচ ওই সব ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি।

এসইউএম