সৌরশক্তি ব্যবহারে সঠিক নীতিমালা তৈরির পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

0
49
Energy&Power1

Energy&Power1সৌরশক্তি ব্যবহারে সঠিক নীতিমালা তৈরি করার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করেছেন  জ্বালানী বিশেষজ্ঞরা। আর সেই সঙ্গে সৌরশক্তি ব্যবহারে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির উপরে জোর দেওয়া হয়।

বুধবার দুপুরে সিরডাপ মিলনায়তনে এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার পত্রিকার আয়োজনে ‘বিদ্যুৎ শক্তি পেতে সোলার সিস্টেম স্থাপনের ওপর শর্তারোপের যৌক্তিকতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এই গুরুত্ব আরোপ করেন।

এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার পত্রিকার সম্পাদক মোল্লা আমজাদ হুসাইনের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানী, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী নাসরুল হামিদ, এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন, রিহাবের সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. সায়ফুল হক, জার্মান সাহায্য সংস্থার (জিআইজেড) সিনিয়র উপদেষ্টা সিদ্দিক জোবায়ের বুয়েটের প্রফেসর ড. ইজাজ হোসাইন, শহীদুল ইসলাম খান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, দেশে সৌরশক্তির ব্যবহারের জন্য যতটা অর্থ ব্যয় করা হয়েছে সেই অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি। গ্রাম ও শহর পর্যায়ে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে। তবে নগর পর্যায়ে এর কোনো সুফল আসেনি বলে মনে করেন তারা। আর সৌরশক্তি ব্যবহারকারীদের প্রশিক্ষণের আওয়াতায় আনা হয়নি। গ্রামপর্যায়ের ব্যবহারকারীরা জানেন না যে তারা কিভাবে এটা থেকে বেশি উপকৃত হবেন।

বক্তারা সৌরশক্তি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন। আর এ জন্য সঠিক নীতিমালা তৈরির ওপর গুরুত্ব আরোপ করার  পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল হাসান বলেন, প্রশিক্ষণের পর সৌরশক্তি সোলার সিস্টেম চালু করার প্রয়োজন ছিল। তবে সেটা করা হয়নি। তিনি মনে করেন একটি কার্যকরী নীতিমালা করা দরকার। যার মাধ্যমে এর ব্যবহার হতে পারে। তিনি আরও বলেন, সোলারের জন্য যে উপাদান ব্যবহার হচ্ছে তা খুবই নিম্নমানের। তাই এটাকে যদি চলমান রাখতে হয় তাহলে নীতিমালা তৈরি করতে হবে।

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, নবায়নকৃত জ্বালানীর ব্যাপারে ভোক্তাদের আরও উৎসাহিত করতে হবে। এই পর্যন্ত সৌরশক্তি ব্যবহারের জন্য ৩০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে তবে সেটা পর্যাপ্ত নয়। আর এই কারণে এর উদ্দেশ্য সফলকাম হয়নি।

এ জন্য দিনের বেলায় সোলার ব্যবহার কমিয়ে আনা, সরকারি সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট ব্যবহার এবং আবাসিক ভবনের ওপর সোলারের ব্যবহার বাড়ানোর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

রিহাবের সহ-সভাপতি বলেন, সোলারের ব্যবহার গ্রাম্য এলাকায় সফল হয়েছে, তবে শহরে এই সফলতা এখনো আসেনি। তাই শহরে কিভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়ে কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

বক্তারা বলেন, এখন পর্যন্ত ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে এই সিস্টেম থেকে তবে তাতে খরচ হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা।

জ্বালানী, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী বলেন, ভবনগুলোতে মোট ব্যবহারের ২ থেকে ৩ শতাংশ সৌরশক্তি ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও তা হয়নি। তবে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। আর এই ব্যবহার কিভাবে বাড়ানো যেতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য সরকার চিন্তা-ভাবনা করছে বলে জানান তিনি। কোন কোন খাতে এর ব্যবহার হবে তা নির্ধারণ করার সময় এসেছে এখন। যাতে আমরা ২০১৫ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করতে পারি।

এসইউএম / এআর