শ্রমিকদের বেতন দিতে বাই সালামি চায় পোশাক শিল্প মালিকরা

BGMEA_10.12.13_Dominic--1দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও তৈরি পোশাক খাতের নৈরাজ্যকর এবং নাজুক পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠতে ও শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য ব্যাংক ও বিমা কোম্পানিগুলোর কাছে বিনা সুদে ঋণ সুবিধা চেয়েছে তৈরি পোশাক শিল্পের নেতারা। এসময় তারা নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য এই বাই সালামি কিংবা বিশেষ ঋণ চেয়েছে। সে ক্ষেত্রে ব্যাংক সব ধরণের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস  দিয়েছেন ব্যাংক ও বীমার নেতারা।

 

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনে পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর নেতারা ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এ প্রস্থাব রাখে মালিক পক্ষ।

অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এর সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকের সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার, নুরুল আমিন, বিকেএমইএর সভাপতি সেলিম ওসমান, বিটিএমএর সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতিদ্বয় এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিমা কোম্পানির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম  বলেন, দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থরিতা লাগাতার হরতাল ও অরোধের কারণে তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি কার্যক্রম তথা জাতীয় অর্থনীতি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করা সম্ভব হচ্ছেনা বলে দাবি করেন তিনি। এতে করে কোটি টাকার পোশাকের রপ্তানি আদেশ বাতিল করছে বলে  জানান তিনি। এ অবস্থা চলতে থাকলে পোশাকখাত চুড়ান্ত ধ্বংসের দিকে চলে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

এরুপ পরিস্থিতিতে পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে ব্যাংক ঋণ ও ঋণের কিস্তি কোনো মতেই পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছে বিশেষ ঋণের ব্যবস্থার প্রস্তাব করেন। যার মাধ্যমে তারা শ্রমিকদের ৪ মাসের বেতন (নভেম্বর-ডিসেম্বর-২০১৩ ও জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি-২০১৪) দিতে পারেন। যে ঋণ মালিকেরা ২ বছর ধরে পরিশোধ করার সময় প্রস্তাব করেছে। এছাড়া এসময়ের মধ্যে এই খাতে দেওয়া ঋণ পরিশোধ করেত না পারলে তা খেলাপি ঋণের আওতায় না নেওয়া জন্য অনুরোধ করা হয়।

টার্ম লোনস, প্রজেক্ট লোনস, এলটিআর কিংবা এমপিআই সুদ মুক্তভাবে ২ বছর পর্যন্ত স্তগিত রাখার প্রস্তাব করেন।এলসিসহ অন্যান্য সুবিধাদি বাধামুক্তভাবে চালু রাখার প্রস্তাবও করা হয়।তাছাড়া সব ধরণের কিস্তি সুদ মুক্তভাবে অন্তত দুই বছরের জন্য চালু রাখতে প্রস্তাব করা হয়।

অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এর সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ বলেন, দেশে ব্যবসাকাতে পোশাক শিল্পের বড় অবদান রয়েছে।ব্যবসা-বাণিজ্য কেবল একটা রানওয়েতে গিয়ে ছিলো।তবে চলমান পরিস্থিতে তা রানওয়ে থেকে ফিরে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রস্তাবগুলো নিয়ে ব্যবসায়ীরা শিগগিরই বসবে বলে জানান তিনি।এই প্রস্তাবে ব্যাংক ও বীমা কোম্পানিগুলোর খুব বেশি লোকসানে পড়তে হবেনা বলে মনে করেন তিনি।তাছাড়া ব্যবসার এই সংকটময় সময়ে সবাই এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।