‘বাংলাদেশের ব্যাচেলর ডিগ্রি যুক্তরাষ্ট্র সাদরে গ্রহণ করে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
227
Statue of Liberty
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম নিদর্শন স্ট্যাচু অব লিবার্টি।

স্বপ্নের দেশ যুক্তরাষ্ট্র। পুরো বিশ্বের মানুষের বসবাস রয়েছে এখানে। ফলে পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের সংস্কৃতি জানার সুযোগ পাওয়া যায় এই দেশে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ডিগ্রিগুলো বিশ্বের সকল দেশেই গ্রহণযোগ্য। তাই উচ্চশিক্ষা নিতে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখানে আসতে চায়। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকেও অনেক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স অথবা পিএইচডি করতে যায়। যে সকল শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স অথবা পিএইচডি করার কথা ভাবছেন তাদের জন্যই আমাদের এই আয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে চাইলে  শিরোনামে গত পর্বে আলোচনা করা হয়েছিলো উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কেন আসা উচিত, সেমিস্টার শুরুর সময়, কি কি ডকুমেন্ট প্রয়োজন এসব নিয়ে।

ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনার ক্যাম্পাস পিএইচডি শিক্ষার্থী মোর্শেদ আলম কায়ান

এ বিষয়গুলো ছাড়াও ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ডিগ্রি প্রোগ্রাম, স্কলারশিপ বা ফান্ডিং সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হয়। পাশাপাশি প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্থ করে।

যুক্তরাষ্ট্রে যারা উচ্চশিক্ষা নিতে চান তাদের জন্য এসব বিষয় নিয়ে রয়েছে আরও কিছু পরামর্শ। পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনার পিএইচডি শিক্ষার্থী মোর্শেদ আলম কায়ান।

ডিগ্রি সম্পর্কে ধারণা

যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি বলতে মাস্টার্স আর পিএইচডিকে বোঝায়। এমফিল, পোস্টডকও গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি বোঝায়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ব্রিটিশ স্টাইল ফলো করার কারণে দেশের মাস্টার্সকে অনেক সময় পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট বলে থাকে। কিন্তু যক্তরাষ্ট্রে আসার আগেই নতুন করে মাস্টার্সকে গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি বলা শিখতে হবে।

দেশটিতে সাধারণত ৩ ধরণের গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি প্রোগ্রামে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

১.মাস্টার্স

বাংলাদেশের মতোই যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা হিসেবে আন্ডারগ্র্যাড (ব্যাচেলর) উত্তীর্ণ হতে হয়। মাস্টার্স সাধারণত ২ বছরের কোর্স প্রোগ্রাম হয়ে থাকে।

২. পিএইচডি

আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পিএইচডি প্রোগ্রাম ৫ বছরের হয়ে থাকে। পিএইচডিতে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই ব্যাচেলর পাস। মাস্টার্স থাকলে সুবিধা, তবে মাস্টার্স থাকতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতা বেশিরভাগ  বিশ্ববিদ্যালয়েই নেই।

৩. মাস্টার্স লিডিং পিএইচডি

মাস্টার্স লিডিং পিএইচডি আসলে পিএইচডি প্রোগ্রামই। ৫ বছরের প্রোগ্রাম এটা। সাধারণত যাদের মাস্টার্স নেই তারা মাস্টার্স লিডিং পিএইচডিতে ভর্তি হয়ে থাকে। প্রথম ২ বছর সকল পিএইচডি শিক্ষার্থীরই কোর্সওয়ার্ক লাগে, এমনকি মাস্টার্স করা থাকলেও (শুধু পিএইচডিতে যারা ভর্তি হয় তাদেরও লাগে)। ২ বছর কোর্সওয়ার্ক শেষে মাস্টার্স ডিগ্রি নেয়া যায়। মূল প্রোগ্রামের বাকি ৩ বছর মূলত পিএইচডির কাজ করতে হয়।

কী কী স্কলারশিপ বা ফান্ডিং আছে?

স্কলারশিপ আর ফান্ডিং টার্ম ২টা কনফিউজিং। স্কলারশিপ পাওয়া মানে হচ্ছে ‘আমি শুধু কোর্স আর রিসার্স ওয়ার্কই করবো, কোন কাজ করবো না। কিন্তু মাস শেষে আমার ব্যাংক একাউন্টে ডলার চলে আসবে।’

আর ফান্ডিং হচ্ছে ‘আমি কোর্স আর রিসার্স ওয়ার্ক করবো, ডিপার্টমেন্ট অথবা প্রফেসর আমাকে টাকা দিবে। আর বিনিমিয়ে আমি প্রফেসরের সাথে কাজ করবো।’

স্কলারশিপ

সাধারণত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার শুধুমাত্র ‘ফুলব্রাইট স্কলারশিপ’ দিয়ে থাকে। এই বছর যুক্তরাষ্ট্র সরকার  বাংলাদেশ থেকে মাত্র ৮ জনকে ‘ফুলব্রাইট স্কলারশিপ’ দিয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব যেসব স্কলারশিপ রয়েছে, সেসব বেশিরভাগই আমেরিকানদের জন্য, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য তেমন একটা নেই।

ফান্ডিং

বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা মূলত ডিপার্টমেন্ট বা প্রফেসরের ফান্ডিংয়ে পড়তে যায়।  এই ফান্ডি ৩ ধরণের হয়ে থাকে।

ক. ফেলোশিপ (Fellowship)

অনেকেই হয়তো ‘ফেলোশিপ’ টার্মটা শুনে থাকবেন। ফেলোশিপ এক ধরণের ফান্ডিং যেটা সাধারণত গ্র্যাজুয়েট স্কুল দিয়ে থাকে। ফেলোশিপ খুব কম মানুষকে দেয়া হয়। এক্সট্রা-ট্যালেন্টেড ব্যক্তিরা এই ফেলোশিপ পেয়ে থাকে। ফেলোশিপের জন্য আলাদা করে আবেদন করতে হয়। শিক্ষার্থীর পাশাপাশি শিক্ষার্থী যে প্রফেসরের সঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছে তাকেও শিক্ষার্থীর পক্ষে আবেদন করতে হয়। প্রথম বছরে (ভর্তি হওয়ার সময়) ফেলোশিপ পাওয়াটা খুব কঠিন। যাদের অনেক রিসার্স পেপার থাকে তারা হয়তো অনেক লড়াই শেষে পায়।

খ. রিসার্স এসিস্ট্যান্টশিপ (Research Assistantship, RA)

‘রিসার্স এসিস্ট্যান্টশিপ’ এক ধরণের ফান্ডিং যেটা পেলে প্রফেসর শিক্ষার্থীকে ডলার দিবে। বিনিমিয়ে প্রফেসরের সাথে রিসার্সের কাজ করতে হবে। আর মাঝে মাঝে প্রফেসরের নেওয়া প্রজেক্ট করে দিতে হবে। প্রফেসরের রিসার্স এসিস্ট্যান্ট হলে এক দিক দিয়ে সুবিধা রয়েছে। তা হলো, প্রফেসরের কাছাকাছি থাকা যায় এবং রিসার্স স্কিল ডেভেলপ করা যায়।

গ. টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ (Teaching Assistantship, TA)

‘টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ’ পেলে প্রফেসরকে টিচিংয়ে সাহায্য করতে হয়। যেমনঃ আন্ডারগ্র্যাড স্টুডেন্টদের খাতা দেখা, এসাইনমেন্ট মূল্যায়ন করা, মাঝে মাঝে ক্লাস নেওয়া, শিক্ষার্থীরা কোন কিছু না বুঝলে বুঝিয়ে দেওয়া ইত্যাদি। এইক্ষেত্রে ডলার দেয় ডিপার্টমেন্ট। টিচিং এসিস্ট্যান্টশিপ ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ ভূমিকা রাখে।

কিছু ভুল ধারণা

বেশিরভাগ বাংলাদেশির ধারণা, পিএইচডি করার পূর্বশর্ত হচ্ছে মাস্টার্স ডিগ্রি থাকা। বেশিরভাগ আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেই পিএইচডি করতে মাস্টার্স লাগে না। তবে শিক্ষার্থী যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির জন্য আবেদন করতে চায় সেখানে মাস্টার্স বাধ্যতামূলক কিনা তা পূর্বেই জেনে নেওয়া ভালো।

বাংলাদেশের ব্যাচেলর ডিগ্রি যুক্তরাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য নয়, এটা সত্য নয়। এটা গুজবমাত্র। বাংলাদেশের ব্যাচেলর ডিগ্রি যুক্তরাষ্ট্র  সাদরে গ্রহণ করে থাকে।

রাসেল মাহমুদ/টি