বৃহস্পতিবার থেকে চট্টগ্রামে শুরু হচ্ছে কাফেক্সপো মেলা

0
91

php আগামী বৃহস্পতিবার থেকে চট্টগ্রাম নগরীর এমএমএ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়ামে শুরু হচ্ছে  ‘চিটাগাং অ্যাপারেল, ফেব্রিক্স এন্ড এক্সেসরিজ এক্সপজিশন(কাফেক্সপো) ২০১৪’। তিনদিন ব্যাপী তৈরী পোশাক শিল্পের প্রদর্শনীর আয়োজন করছে চট্টগ্রামের পোশাক তৈরী কারখানার মালিকদের সংগঠন  ‘বিজিএমইএ’ ।

১২ তম বারের মতো আয়োজিত এবারের মেলায় ৩০ প্রতিষ্ঠান ৫০টি স্টলে তৈরী পোষাক শিল্পের বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কেনা কাটা করতে পারবেন।

২০ মার্চ এ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্যে বিজিএমইএ’র প্রথম সহ সভাপতি নাছির উদ্দিন বলেন,  শত প্রতিকূলতার মধ্যেও বিগত ২০১২-২০১৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এ শিল্পের ওভেন গার্মেন্টসে ১৮ দশমিক ১৩ শতাংশ ও নিট গার্মেন্টসে ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ  প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

আমাদের দেশে উৎপাদিত পণ্যের বৈচিত্র, টেক্সটাইল এক্সেসরিজ’র যে উন্নতি ঘটেছে তা এবারের মেলার মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে উপস্থাপন করা হবে। এতে করে ক্রেতারা এদেশের পণ্যের ব্যাপারে উৎসাহী হবে।  এছাড়া মেলার মাধ্যমে নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে আমাদের উদ্যোক্তাদের পরিচয় ঘটবে।

হাজার হাজার শিল্প উদ্যোক্তার আন্তরিক প্রচেষ্টা আর লাখো শ্রমিকদের নিরলস শ্রমে গত ৩০ বছরে পোষাক শিল্পের গৌরব আমাদের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা স্থগিত এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এ শিল্প এখন কঠিন সময় পার করছে উল্লেখ করে নাছির উদ্দিন বলেন, ৮০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পোশাক শিল্পখাতে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে দেশের ৪ কোটির অধিক লোক এ শিল্পের উপর নির্ভরশীল।

‘নিইলসেন কোম্পানি(বাংলাদেশ)লি’. নামে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণার উদ্ধৃতি  দিয়ে তিনি বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষা অনুযায়ী ব্যাংক, বীমা, শিপিং, কর, প্রকৌশল, গ্যাস, ওয়াসা, আবাসান, হোটেল, পর্যটন ইত্যাদি খাতে এই শিল্পের অবদান ৬ হাজার কোটি টাকারও উপরে। জিডিপিতে এর অবদান ১৬ দশমিক ৭২ শতাংশ। মোট দেশজ রপ্তানির ৭৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে।

এছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, ইউরোপে অর্থনৈতিক মন্দা ও অন্যান্য দেশেল তুলনায় উচ্চ ব্যাংক সুদের হার বাংলাদেশে এ খাতকে প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্যে দুরে ঠেলে দিয়েছে।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প খাত যখন নানা সমস্যায় বিপর্যস্ত ঠিক তখন শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরি কাঠামো এ খাতে টিকে থাকাটা  আরো বেশী কঠিন করে তুলেছে। এ কারণে ব্যবসায় ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে জানান তিনি।

এসব সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। পাশপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

বেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে জানিয়ে বিজিএমইএ সহ সভাপতি বলেন, এ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন। চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফ্লাইওভার, বাইপাস বা রিং রোড নির্মাণ এবং কর্ণফুলী নদী তলদেশে টানেল নির্মাণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বিজিএমইএ পরিচালক এমএ ওয়াহাব, অঞ্জন শেখর দাশ, বিজিএমই’র সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম,শেখ সাদি, সাব্বির মোস্তফা এসএম আবু তৈয়ব, নাছির উদ্দিন চৌধুরী, মেলার চিফ কো-অর্ডিনেটর শাহেদ সাইফুল ইসলাম, হেলাল উদ্দিন চৌদুরী, এ এন এম সাইফুদ্দিন সাবেক পরিচালক এমদাদুল হক চৌধুরীসহ সংঘঠনের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।