এবার বিদেশী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনা-বেচার তথ্য চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

0
45

bb_bsec_Dse_cseপুঁজিবাজারে ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা সাবসিডিয়ারি কোম্পানির শেয়ার কেনা-বেচার দৈনিক তথ্য চাওয়ার  নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতার রেশ এখনও কাটেনি। এর মধ্যে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনা-বেচার তথ্য নিয়ে অতি উৎসাহী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার অনিবাসীসহ বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের বিস্তারিত তথ্য পেতে চায় সংস্থাটি।

মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাথে বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, বৈঠকে বিএসইসি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি জানায়। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরণের রিপোর্টিং সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অপ্রয়োজনীয়। বিদেশী বিনিয়োকারীদের বিনিয়োগ কাস্টোডিয়ান ব্যাংকগুলোর মধ্য দিয়ে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলেই ব্যাংকিং চ্যানেল থেকে তাদের বিনিয়োগ, মুনাফা প্রত্যাবাসনসহ বিভিন্ন তথ্য পেতে পারে। তাছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কি পরিশান অর্থের শেয়ার কিনছে, বিক্রি করে কত টাকা বা ডলার নিয়ে যাচ্ছে বড় জোর সে তথ্য চাইতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু কোন কোম্পানির শেয়ার কিনছে, কি দামে কিনছে, কতগুলো কিনছে-সে তথ্য একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক।

সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি বৈঠকে বলেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পক্ষ থেকে তাদের উপর চাপ আছে। পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ কত, সে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কোনো চাপ পড়বে কি না তার জন্য এসব তথ্য প্রয়োজন। তবে তারা পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানোর পক্ষে। এ বিষয়ে তারা সহায়তা করতেও প্রস্তুত।

উল্লেখ, গত জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির প্রতিদিনের শেয়ার কেনা-বেচার তথ্য জানানোর নির্দেশ দেয়। মূলত একে কেন্দ্র করেই বাজারে দর পতন শুরু হয়। পরবর্তীতে পতনের সঙ্গে যুক্ত হয় আরও কিছু কারণ।

জানা গেছে, বৈঠকে বাংরাদেশ অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের তথ্যের উপরও বিশেষ জোর দেয়। বলা হয়, কি সংখ্যক অনিবাসী বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করছে, তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ কত তার কোনো স্পষ্ট চিত্র কোথাও নেই। তাই তাদের তথ্য পরিসংখ্যান দরকার।

এর জবাবে বিএসইসির জবাবে বলা হয়, অনিবাসী বাংলাদেশীরা মূলত প্রাইমারি মার্কেটে তথা আইপিওতে বিনিয়োগ করে। সিডিবিএল থেকে সহজেই এ তথ্য পেতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর জন্য সশ্লিষ্ট বোকারদের কাছ থেকে রিপোর্ট নেওয়ার দরকার নেই।

বৈঠক বিষয়ে সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাজিদ হোসেন বলেন, পুঁজিবাজারে কেন  বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে না, কিভাবে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো যায় তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

বিএসইসি, ডিএসই ও সিএসই’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগ আনার বিষয় কাজ করছে ব্র্যাক ইপিএল, সিটি ব্রোকারেজ এবং লংঙ্কা বাংলাসহ কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজ। এছাড়া এ প্রক্রিয়ায়  কাস্টোডিয়ান ব্যাংকগুলো যুক্ত। তাই বিদেশী বিনিয়োগের পথে কোনো বাধা থাকলে তা চিহ্নিত করা এবং সমস্যা সমাধানে করনীয় ঠিক করতে এসব ব্রোকারহাউজ ও কাস্টোডিয়ান ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করা দরকার। তাদের সঙ্গে আলোচনা করলে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় উঠে আসবে বলে মনে করেন তারা‌। বৈঠকে শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাজিদ হোসেন অর্থসূচককে বলেন, বিদেশী বিনিয়োগ যারা বাংলাদেশে নিয়ে আসেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য আমরা বলেছি।

তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করলে উঠে আসবে বিদেশি বিনিয়োগ কিভাবে বাড়বে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো আইনি সমস্যা আছে কী না। থাকলে সেটিকে সমাধান করার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমরা করবো।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের, সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাজিদ হোসেন, বিএসইসি’র পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম, ডিএসই’র মহাব্যবস্থাপক ফিন্যান্স জীবন চন্দ্র দাস এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্ত্বার ও মহাব্যবস্থাপক আব্দুল হাই।

জিইউ