পদ্মা সিমেন্ট কেলেঙ্কারির দায় কে নেবে?

0
78

Padma_Cementঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বোর্ড থেকে বিতাড়িত হয়ে ওটিসিতে যাওয়া পদ্মা সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড অবলুপ্ত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কোম্পানিটি হাইকোর্ট থেকে এ বিষয়ে অনুমোদন নিয়েছে। কোর্ট এ প্রক্রিয়া নিষ্পন্ন করার জন্য একজন লিকুইডেটর (অবসায়ক) নিয়োগ করেছে। গত বুধবার লিকুইডেটরের পক্ষ থেকে পাওনাদারদেরকে ১৫ দিনের মধ্যে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

দেনার দায়ে জর্জরিত এ প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ইতোমধ্যে নিলামে উঠেছে। কোনো সম্পদ থেকে থাকলেও তা বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থে প্রথমে ব্যাংক ঋণ শোধ হবে। লিকুইডেটরের পাওনা দিতে হবে। এর পর কিছু থাকলে অন্যান্য পাওনাদারের পাওনা শোধ হবে। এ প্রক্রিয়ায় শেয়ারহোল্ডারের ভাগ্যে কিছু জোটার সম্ভাবনা খুবই কম।

পুঁজিবাজারে অনেক কেলেঙ্কারির মধ্যে পদ্মা সিমেন্ট কেলেঙ্কারি অন্যতম। একটি দেওলিয়া প্রায় প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে না রেখে তা বিলুপ্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। তবে বিষয়টি গরু মেরে জুতা দানের মত। কোম্পানির অসাধু উদ্যাক্তাদের কাছে দফায় দফায় প্রতারিত হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। একটি লোকসানী কোম্পানিকে লাভজনক দেখিয়ে পদ্মা সিমেন্টের অসাধু উদ্যোক্তারা আইপিওর মাধ্যমে সাধারণ জনগণের কাছে শেয়ার বিক্রি করেছে। আবার ২০০৯ ও ১০ সালে চাঙ্গা বাজারের সুযোগে উদ্যোক্তাদের হাতে থাকা প্রায় সব শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে উচ্চ দামে গছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এর সবই হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চোখের সামনে।

একটি কোম্পানি সব সময় ভাল ব্যবসা করবে, প্রতবছর তার মুনাফা হবেই-এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। ব্যবসা করতে যেয়ে কোম্পানিটি লোকসান দিতেই পারে। লোকসানের ভারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, দেওলিয়াও হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন উঠে তখন-যখন একটি লোকসানি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর পরই তার মুনাফার বেলুন ফেটে যায়। পদ্মা সিমেন্ট ২০০২ সালে তালিকাভুক্ত হয়। আর সে বছরই কেবল কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ৪৪ পয়সা আয় দেখায়। কিন্তু পরের বছর থেকে টানা লোকসান দেখাতে থাকে। ২০১ সালে কোম্পানিটি হঠাৎ ৪ টাকা ইপিএস দেখায়। তারপর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এর মধ্যেই ঘটে যায় অনেক ঘটনা। ২০১০ সালে সাত বছর ধরে লোকসান দিতে থাকা এ কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের দাম উঠে ৪০ টাকায়। এ সময়ে অসাধু উদ্যাক্তারা শেয়ারের বড় অংশ বিক্রি করে দেন।

পদ্মা সিমেন্টের শেয়ার মূল্য কারসাজির পেছনে খোদ ডিএসইর একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের নাম শোনা যায় জোরেশোরে। তাদের পক্ষ থেকে গুজব ছড়ানো হয়-অমুক গ্রুপ কোম্পানিটি কিনে নিচ্ছে। তমুক গ্রুপের কাছে এ মাসেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ডিএসইর রাঘব-বোয়ালরা যুক্ত থাকায় অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি এবং নানা অনিয়ম সত্ত্বেও  কোম্পানির বিষয়ে কোনো অনুসন্ধানের উদ্যোগ পর্যন্ত নেওয়া হয় নি। তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি শেষ হয়ে যাওয়ার পর একে ওটিসি মার্কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়।

প্রশ্ন উঠতে পারে-আইপিও’র অনুমোদনের সময় যথাযথভাবে নথিপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছিল তো?

নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট আর ইস্যু ম্যানেজারের প্রত্যায়ন কি খতিয়ে দেখা হয়েছিল? এ ক্ষেত্রে তাদের কোনো ব্যর্থতা বা অনিয়ম থেকে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ এখনও আছে। তা নেওয়া হবে কি?

 উদ্যাক্তারা কি ঘোষণা দিয়ে তাদের শেয়ার বিক্রি করেছিল। করে থাকলে এসইসি ও ডিএসই সে ব্যাপারে এত নির্বিকার ছিল কেন। আর ঘোষণা না দিয়ে বিক্রি করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেকন নেওয়া হয়নি?

ডিএসইর যে প্রভাবশালী সদস্যরা সবকিছু জেনেও এ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেছিল, তারা কি কারসাজির সঙ্গে যুক্ত নয়? ওটিসিতে স্থানান্তরের ঠিক কিছুদিন আগে তারা তাদের সব শেয়ার বিক্র করে দিয়েছে। ওটিসিতে স্থানান্তরের খবর কি তারা আগেই জানত?