থমকে যেতে পারে হল উদ্ধারের আন্দোলন, নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষকরা

0
39
JnU
ফাইল ছবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

JnUবিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষককে অস্ত্র ঠেকিয়ে টেন্ডার ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে থমকে যেতে পারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) হল উদ্ধার আন্দোলন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে এমন আশঙ্কা। অন্যদিকে অস্ত্র ঠেকানোর ইস্যুকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের মাঝে বিরাজ করছে এক ধরণের আতঙ্ক। নিরাপত্তহীনতায় ভুগছে তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আলমকে অস্ত্র ঠেকিয়ে টেন্ডার ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিন ছাত্রলীগ নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামসহ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম রেজা ও ছাত্রলীগকর্মী শ্যামন মোল্লার বিরুদ্ধে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে শনিবারে ক্লাস বর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। সেই সাথে বেদখলকৃত হল উদ্ধারের দাবিতে রোববার শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত সমাবেশও বর্জন করে তারা।

শিক্ষক ও ছাত্রলীগের পরস্পর এই বিরোধের কারণে বিপাকে পড়েছে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক এক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, এবার হল উদ্ধারে আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু শিক্ষক আর ছাত্রলীগের পরস্পর বিরোধী অবস্থানের কারণে এ যাত্রায় থেমে যেতে পারে হল উদ্ধারের আন্দোলন।

শিক্ষক-ছাত্র ঐক্য পরিষদের আন্দোলনে নতুন স্বপ্ন দেখেছিল হল বঞ্চিত জবির হাজার হাজার শিক্ষর্থী। কিন্তু তাদের স্বপ্ন এবারও মুকুলেই ঝরে যাবে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে আগামি মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে বহিস্কারের আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা ‍দিয়েছে জবি ছাত্রলীগ কমিটি। ফলে সেদিন বড় ধরণের সংঘর্ষ হতে পারে বলে মনে করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

তারা বলেন, শিক্ষক ও ছাত্রলীগের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে চাপা পড়ে যেতে পারে হল উদ্ধার আন্দোলন। আবার কেউ কেউ মনে করেন এক পক্ষ (ছাত্রলীগ) টাকা খেয়েছে আর অন্যপক্ষ (শিক্ষক) সরকারের চাপে পড়ে আন্দোলনকে থামিয়ে দিতে নাটক সাজাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগকে অভিুযক্ত করে এমবিএ’র হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থসূচককে বলেন, ছাত্রলীগ আর শিক্ষকদের বিপরীতমুখি অবস্থানের কারণে আন্দোলন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে হল উদ্ধার করা সম্ভব তো হবেই না বরং যে কোনো সময়ে বড় ধরণের সংঘর্ষও হতে পারে।

ছাত্রলীগের চাঁদাবাজী সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সামনে যেসব কাজ হয় সেগুলো থেকে এক ভাগ করে টাকা নিলেও কয়েক লাখ টাকা পেতো ছাত্রলীগ কমিটি। কিন্তু তারা শিক্ষককে অস্ত্র ঠেকিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কিত করেছে।

সাধারণ ছাত্রদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেট বন্ধ করে লেগুনা স্ট্যান্ড করা, বাংলাবাজারে ছাত্রী হলের জায়গায় রিকশা গ্যারেজ করে চাঁদা আদায় করা ছাড়াও ভিক্টোরিয়া পার্কের বিপরীত পাশে আজমেরী বাস, ভিক্টর পরিবহন, সুপ্রভাত ও বিহঙ্গ পরিবহন থেকে নিয়মিত চাঁদা নিচ্ছেন তারা। এমনকি চাহিদামতো চাঁদা না পেয়ে কয়েকদিন শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি বাস ক্রয়ও বন্ধ করে দিয়েছেন এসব নেতারা এমন অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি কমনরুমের জন্য পাঁচ লাখ টাকার আসবাবপত্র ক্রয়ের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সৈয়দ আলমকে অস্ত্র ঠেকিয়ে ওই টেন্ডারের নথি চেয়েছিল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম ও ছাত্রলীগ কর্মী শ্যামন মোল্লা।  এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে বেআইনিভাবে বহিষ্কার ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ উথাপন করে সাত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ আলী, নীল দলের সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও প্রক্টর অশোক কুমার সাহাকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পরে ওইদিন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১তম জরুরী সিন্ডিকেট সভায় ছাত্রলীগের সাধারণ-সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শ্যামন মোল্লা ও সাংগঠনিক-সম্পাদক শামীম রেজাসহ তিন ছাত্রলীগ নেতাকে অতি শিগগির গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

তবে চাঁদার বিষয়ে অস্বীকার করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, পাঁচ লাখ নয় ২০ হাজার টাকার বাজেট হয়েছে কি-না তাও আমরা জানি না। এটা শিক্ষকদের সাজানো নাটক।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. সরকার আলী আক্কাস অর্তসূচককে বলেন, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষকরা এখন জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অস্ত্র ঠেকানোর প্রতিবাদের ভাষা নেই শিক্ষকদের।

তবে চলমান আন্দোলনে সাফল্য এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হল উদ্ধার ও অবকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে শিক্ষক সমাজের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

জবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সজিব অর্থসূককে বলেন, হল উদ্ধারের আন্দোলন চলবে, তবে ছাত্রলীগের সাথে নয়। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধরণের চাঁদাবাজী বন্ধের জন্যও আন্দোলন চলবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৩ সালের ১৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার দায়ে ২০ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ জবি ছাত্রলীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল।