ঋণ বিতরণে ভাটা কাটেনি ব্যাংকগুলোর

0
88
টাকা
টাকা (ফাইল ছবি)

Takaরাজনৈতিক অস্থিরতা কমে এলেও এখনো বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটেনি। চাহিদা বাড়েনি ব্যাংক ঋণের। ফলে ব্যাংকগুলোতে অলস অর্থ জমে পাহাড় হচ্ছে। বেড়ে যাচ্ছে আমানত ও ঋণের অনুপাত (এডিআর)।

গত ডিসেম্বর মাসেও এডিআর ছিল ৭১ দশমিক ১৮ শতাংশ। ফেব্রুয়ারির প্রথমভাগে তা আরও কমে নেমে আসে ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশে। অর্থাৎ ডিসেম্বরে প্রতি ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে পেরেছে ৭১ টাকা ১৮ পয়সা। আর জানুয়ারিতে এসে সে ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭০ টাকা ৮৩ পয়সা। কম ঋণ বিতরণ করায় ওই খাতে সুদ বাবদ ব্যাংকের আয় কম হয়েছে। কিন্তু আমানতকারীদের একই পরিমাণ সুদ দিতে হয়েছে। এডিআর কমে যাওয়ায় এভাবে চাপে পড়ছে ব্যাংকগুলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকগুলো তাদের সংগৃহীত আমানতের মধ্যে ঋণ হিসেবে বিতরণ করতে পেরেছে ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অথচ শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলো আমানতের ৯০ শতাংশ এবং মূলধারার ব্যাংকগুলো ৮৫ শতাংশ তাদের আমানত থেকে ঋণ দিতে পারে।

২০১২ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর আমানত ও ঋণের গড় অনুপাত (এডিআর) ছিল ৭৬ দশমিক ১৩ শতাংশ। যা ২০১৩ সালের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়ায় ৭১ দশমিক ১৮ শতাংশে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগ পরিস্থিতি ইতিবাচক ধারায় না আসায় বাণিজ্যিক ব্যাংকের যথাযথ ঋণ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না। রাজনৈতিক পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা না থাকা আর শিল্পকারখানা গড়ে উঠার মতো অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবকেই এর কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থায় মোট ৬ লাখ ২৪ হাজার ৬৪৮ কোটি ৭ লাখ টাকা আমানত রয়েছে। এর মধ্য থেকে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করতে পেরেছে ৪ লাখ ৬০ হাজার ৪৫৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এ সময় গড় আমানত বেড়েছে ১৬ দশমিক ১৬ শতাংশ। অপরদিকে ঋণ বেড়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

এ সময় ঋণ বিতরণে তুলনামূলকভাবে খারাপ অবস্থায় রয়েছে রাষ্ট্রীয় খাতের তিন বাণিজ্যিক ব্যাংক। সোনালী ব্যাংকের ১৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধি হলেও ঋণ বিতরণ কমেছে ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অগ্রণী ব্যাংকের ২২ দশমিক ১১ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধি হলেও ঋণ কমেছে ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জনতা ব্যাংকের ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ আমানত বাড়লেও ঋণ কমেছে ৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

রূপালী ব্যাংকের আমানত প্রবৃদ্ধি ২৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ হলেও আলোচ্য সময়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ২৬ শতাংশ।

বড় তিনটি ব্যাংকের ঋণ কমার কারণে রাষ্ট্রীয় মালিকানার চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের গড় ঋণ বিতরণ কমেছে ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আর আমানতে গড় প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এ সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলোর গড় এডিআর দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ৩৮ শতাংশে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানার বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে ২৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বেড়েছে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ। এসব ব্যাংকের এডিআর দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৮২ শতাংশ।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ১৫ দশমিক শূন্য ৩১ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বেড়েছে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। তাদের এডিআর রয়েছে ৭৬ দশমিক ৯৩ শতাংশে।

বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোতে ১৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বেড়েছে মাত্র ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। তাদের এডিআর দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ৪৪ শতাংশে।

ব্যাংকিং খাতে ঋণ বিতরণে গতি না আসার কারণ জানতে চাইলে এনসিসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূরুল আমিন বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সব দল অংশগ্রহণ করেনি। এ নির্বাচন নিয়ে দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে নানা বিতর্ক রয়েছে। তাছাড়া এ নির্বাচনকে ঘিরে আবার রাজনৈতিক অস্থিরতা আসতে পারে এ কারণে ব্যবসায়িরা এখনও পুরোপুরি বিনিয়োগে উৎসাহি হচ্ছে না। ফলে এখনও ব্যাংকের ঋণ বিতরণ নেতিবাচক ধারায় চলছে বলে তিনি জানান। অন্যদিকে বিনিয়োগ করতে না পারায় গ্রাহকরা ব্যাংকে তাদের আমানত গচ্ছিত রাখছে। এ কারণে এডিআরে একটা ফারাক থেকেই যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এসএই