খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী

0
71

Bangabandhu_rallyযথাযোগ্য মর্যাদা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে খুলনায় পালিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৪তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস।

১৯২০ সালের এদিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

দিবসটি উপলক্ষে নগরীতে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, র্যা লি, শিশু সমাবেশ, বক্তৃতা, কবিতা পাঠ, রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দোয়া-মাহফিলসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

‘বঙ্গুবন্ধুকে জানবো আদর্শবান মানুষ হবো’ এ স্লোগান নিয়ে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ জাতির জনকের জীবনী ও বাংলাদেশ সৃষ্টিতে তার ভূমিকা উল্লেখ করে বলেন, শতাব্দীর মহানায়ক, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্রষ্টা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে এদেশ স্বাধীন হতো কিনা সন্দেহ। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর আর্দশে উজ্জীবিত হয়ে নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে হবে। বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনে বহুবার কারাভোগ করেছেন, অনেক নির্যাতন ও কষ্ট সহ্য করে এ দেশকে স্বাধীন করেছেন। এ থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে নতুন প্রজন্মের প্রতি আহবান জানান তিনি।

খুলনা জিলা স্কুল মাঠে জেলা প্রশাসন আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আনিস মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান, জেলা পরিষদ প্রশাসক শেখ হারুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার গোলাম রউফ খান পিপিএম (বার) ও যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর এম আবুল বাশার মোল্লা। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মাহাবুবার রহমান, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আলমগীর কবীর, নাগরিক ফোরামের চেয়ারপার্সন মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল কাইয়ুম, আওয়ামী যুব লীগের আহবায়ক এ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান পপলু ও জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মালেকা বেগম। স্বাগত বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আবু দাউদ মো. গোলাম মোস্তফা।

এর আগে সকাল ৮টায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যা লি নিউ মার্কেট হতে শুরু হয়ে খুলনা বেতারে নির্মিত জাতির জনকের প্রতিকৃতির সামনে শেষ হয়। এরপর জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে তারা পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।

দুপুরে দুঃস্থ ও ভবঘুরে শিশুদের আপ্যায়ন, বাদজোহর সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া ও অন্যান্য উপসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতির জনকের জীবন ও আদর্শ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্পর্কে আলোচনা, জাতির পিতার জীবনার্দশের উপর তথ্যভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ বেতার খুলনা দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালাও প্রচার করে।

আলোচনা সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী শিশুদের রচনা, চিত্রাংকন, সুন্দর হাতের লেখা ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের শিশুদের হাতে পুরস্কার প্রদান করেন।