বিশ্ব বাজারে বৃদ্ধির অজুহাতে দেশে বাড়লো গুড়ো দুধের দাম

0
50

milk powderরাজধানীর খুচরা বাজারে বেড়েছে গুড়োদুধের দাম। বাজারে দেখা গেছে ডিপ্লোমা, ডানো ও মাকর্স ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত গুড়োদুধের দাম কেজি প্রতি প্রায় ৪০ টাকা বেড়েছে। হুট করে দুধের এই বাড়তি দামের কারণও স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেন নি। বিক্রেতারা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে দেখালেও আন্তর্জাতিক বাজারে দেখা গেছে দাম কিছুটা বাড়লেও চলতি মাসে এই দাম কমতির দিকে।

আন্ডারস্টান্ডিং ডেইরি মার্কেট নামের একটি ওয়েবসাইটের তথ্যমতে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্চ মাসে টন প্রতি গুড়ো দুধের দাম কমেছে। ওয়েবসাইটটির হিসাবে দেখা গেছে চলতি বছর জানুয়ারি মাসে প্রতিটন গুড়োদুধ চার লাখ টাকায় বিক্রি হলেও মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তা তিন লাখ ৯৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর নয়াবাজারে দেখা গেছে খুচরা পর্যায়ে ডিপ্লোমার দাম বেড়েছে ৪০ টাকা। এই ব্র্যান্ডের গুড়োদুধ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬৮৫ টাকা দরে। মাকর্স কেজিপ্রতি ৫৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৯০ টাকা। আর ৬৬৮ টাকার ডানো কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০৯ টাকা দরে।

নয়াবাজারের ব্যবসায়ী স্বপন মিয়া জানান, বেশ কিছু দিন আগেই গুড়োদুধের দাম বৃদ্ধি করেছে কোম্পানিগুলো। তবে হঠাৎ করে এতো বৃদ্ধি পাওয়াকে অস্বাভাবিক বলে মনে করেন তিনি।

তবে ক্রেতাদের দাবি কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দুধের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। শেখ আহসান হাবিব নামের এক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, কয়েক দিন আগেই দুধের দাম এক দফা বেড়েছে, এই অবস্থায় হুট করে আবার দুধের দাম বাড়াটা ব্যবসায়ীদের ষড়যন্ত্র।

গুড়োদুধ যেহেতু শিশু খাদ্য সেহেতু এই পণ্যটির দাম যেন সাধারণের নাগালে খাকে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেকে যথাযথ নরজ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিলার বলেন ব্যাবসায়ীদের চাইতে কোম্পানিগুলোই দাম বাড়ানোর সিন্ডিকেট বেশি করে। তারা নান অজুহাতে এক সাথেই দুধের দাম কয়েক শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।

সম্প্রতি মানের প্রশ্নে একটি ব্র্যান্ডের ৬০০ টন গুড়ো দুধ দেশের বাজারে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বিএসটিআইএর পরামর্শ অনুসারে চট্টগ্রাম বন্দর শুল্ক বিভাগ ওই দুধ আটকে দেয়। এর পর পরই বাজারে একটা সংকট তৈরি হয় এবং দাম বাড়ানো হয় গুড়ো দুধের।

এই অবস্থায় শিশুখাদ্য ও পুষ্টির বিবেচনায় আমদানি করা ওই পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রনে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা।