জন্মসনদ না থাকায় গিনেজবুকে নাম উঠেনা বাংলাদেশির

0
88
khadem Ali
khadem Ali
মৃত খাদেম হোসেন শিকদার (১৫২ বছর)

গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডবুকে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বয়সী মানুষটির নাম মিসাও ওকাওয়া। গত ৫ মার্চ তার ১১৫তম জন্মদিন পালন করেন তিনি। কিন্তু আমাদের দেশে তার চেয়ে বেশি বয়স্ক মানুষ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র জন্মনিবন্ধন না থাকায় তাদের নাম গিনেজ বুকে লেখা হয়না। তেমনি একজন বাংলাদেশের নারী ফাতেমা বেগম চাঁদপুরের শাহরাস্তি টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের খোদ্দ গ্রামের হাবিবুলের স্ত্রী। ১৩০ বছর বয়সী এই মহিলা এখনও বেঁচে আছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৫ বছর পূর্বে ফাতেমার স্বামী হাবিবুল মারা যান। তাদের চার কণ্যা সন্তান থাকলেও কোনো ছেলে সন্তান ছিল না। কিছুদিন পূর্বে ৫৬ বছর বয়সে তার সর্বকনিষ্ঠ কণ্যা মারা যায়।

বর্তমানে তার বংশধর হিসেবে চতুর্থ বংশ চলছে। মেয়ের সংসারে ২১ জন আর ২১ জনের সংসারে ৩৪ জন এবং ৩৪ জনের মধ্য থেকে ৭ জনসহ ৬৬ জন সদস্য বর্তমানে তার বংশধর। তিনি জীবন্ত কিংবদন্তী হওয়ায় তাকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসে। তার বাড়িতে সব সময়ই আত্মীয়-স্বজনের ভিড় লেগে থাকে।  তিনি এখনও কথা বলতে ও শুনতে পারেন।

এর আগে জন্মসনদ না থাকায় মাদারীপুরের খাদেম হোসেন শিকদারের বয়স ১৫২ বছর হলেও তার নামও গিনেজ বুকে ওঠেনি। ২০০৮ সালের ১৯ আগস্ট ভারতের হাবিব মিয়া (১৩৮) পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন। সে সংবাদ তখন বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। খাদেম শিকদারের বয়স জানার আগ পর্যন্ত সারাবিশ্বের মানুষ জানত হাবিব মিয়াই সবচেয়ে দীর্ঘ আয়ু নিয়ে পরলোক গমন করেছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ও প্রামাণ্য সূত্রে জানা গেছে, পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক মানব হিসেবে তখনো জীবিত ছিলেন মাদারীপুর সদরের খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর শিকদারকান্দি গ্রামের হাজী খাদেম শিকদার। বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রে লেখা জন্ম তারিখ অনুযায়ী তার বয়স হয়েছে ১৫২ বছর ১ মাস ২১ দিন। তার আশা ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বয়সী ও জীবিত মানুষ হিসেবে ওয়ার্ল্ড গিনেজ বুকে নাম লেখাবেন। কিন্তু সে আশা পূরণ হলো না তার। ১৫২ বছর বছর বয়সে মারা যান তিনি।

এমআর/এএস