১ অক্টোবর থেকে দোহা রুটে ইউএস-বাংলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
99
বক্তব্য রাখছেন ইউএস-বাংলার প্রধান নির্বাহী

দেশের অন্যতম বেসরকারি প্রিমিয়াম এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স আগামী ১ অক্টোবর ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে দোহা রুটে ফ্লাইট শুরু করতে যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁও হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ।

ইমরান আসিফ বলেন, প্রতিষ্ঠার মাত্র দু’বছরের মধ্যে ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা। বর্তমানে কাঠমান্ডু ছাড়াও কলকাতা, মাস্কট, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক রুটে ইউএস বাংলা ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, আগামী ১ অক্টোবর থেকে সপ্তাহে ৪ দিন (সোম, বুধ, শুক্র ও রোববার) বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৬টায় এবং চট্টগ্রাম থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কাতারের রাজধানী দোহার উদ্দেশ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ছেড়ে যাবে।

বক্তব্য রাখছেন ইউএস-বাংলার প্রধান নির্বাহী

দোহার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় পৌঁছাবে এবং রাত সাড়ে ১১টায় দোহা থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে। পরদিন সকাল ৮টায় চট্টগ্রামে এবং সকাল সাড়ে ৯ টায় ঢাকায় পৌঁছাবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা থেকে দোহায় ন্যূনতম ভাড়া পড়বে ওয়ান ওয়ে ২৪ হাজার ৩৮৫ টাকা এবং রিটার্ন ৪০ হাজার ২৬৪ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে দোহায় ন্যূনতম ভাড়া ওয়ান ওয়ে ২৫ হাজার ৩৫৩ টাকা এবং রিটার্ন ৪১ হাজার ২৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভাড়ার সঙ্গে সকল প্রকার ট্যাক্স ও সারচার্জ অন্তর্ভুক্ত।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, এশিয়ার অন্যতম গন্তব্য দোহা রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিতে পেরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স পরিবার অত্যন্ত গর্বিত। শিগগির হংকং, দিল্লী, চেন্নাই, আবুধাবী, গুয়াংজুহসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা হবে।

আগামী বছর বহরে বোয়িং ৭৭৭-২০০ এর মতো বড় এয়ারক্রাফট সংযোজনের মাধ্যমে সৌদি আরবের দাম্মাম, জেদ্দা, রিয়াদে ফ্লাইট শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে ইউএস-বাংলার।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দুইটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করার পর বর্তমানে তিনটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট এবং তিনটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফটসহ মোট ছয়টি এয়ারক্রাফট রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বহরে।

এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে আরও দুইটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং একটি ড্যাশ ৮-কিউ৪০০ ইউএস-বাংলা’র বিমান বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যাত্রা শুরু করার পর মাত্র ৩ বছরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সেক্টরে ইতোমধ্যে ৩০ হাজারের অধিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। যা বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টরে একটি মাইল ফলক।

প্রতি সপ্তাহে বর্তমানে ৩০০টির অধিক ফ্লাইট পরিচালনা হচ্ছে। ইউএস-বাংলাই একমাত্র বেসরকারি এয়ারলাইন্স, যা বাংলাদেশের প্রতিটি বিমানবন্দরে যাত্রী সাধারণের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

ইমরান আসিফ বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন মাস্কট এবং ঢাকা থেকে প্রতিদিন কোলকাতা, সপ্তাহে ছয়দিন কুয়ালালামপুর, চারদিন সিঙ্গাপুর ও ব্যাংকক ও তিনদিন কাঠমান্ডু রুটে ফ্লাইট চলাচল করছে। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে সপ্তাহে দু’দিন কোলকাতা রুটে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে।

এছাড়া প্রতিদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ৬টি, ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ২টি, ঢাকা-যশোর রুটে ২টি, ঢাকা-সৈয়দপুর রুটে ২টি, ঢাকা-সিলেট রুটে ১টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সপ্তাহে ঢাকা-বরিশাল রুটে ৩টি ও ঢাকা-রাজশাহী রুটে ৪টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যাত্রা শুরুর মাত্র তিন বছরের মধ্যেই দেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে। বর্তমানে ইউএস-বাংলা অভ্যন্তরীণ রুটের শতকরা ৫০ ভাগ যাত্রী এককভাবে পরিবহন করে দেশের আকাশ পথের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে করেছে সুদৃঢ়। যার স্বীকৃতিস্বরূপ দেশিয় এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে ইউএস-বাংলা বেস্ট ডমেস্টিক এয়ারলাইন্সের মর্যাদা লাভ করেছে।

তিনি বলেন, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক রুটের বিজনেস ক্লাসের যাত্রীদের জন্য বাসা থেকে পিক-ড্রপ সার্ভিস, ১০ মিনিট ল্যাগেজ ডেলিভারি, সিনিয়র সিটিজেনদের ২০% ডিসকাউন্ট সুবিধা, চট্টগ্রাম ও যশোরে ওয়াই-ফাই যুক্ত শাটল বাস সেবার ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া রয়েছে নানাবিধ আন্তর্জাতিক মানের সেবা।

সংবাদ সম্মেলনে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ডেপুটি ডিরেক্টর (সেলস এন্ড মার্কেটিং) সোহেল মাজিদ, উপ-মহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং সাপোর্ট এন্ড পিআর) মো. কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

অর্থসূচক/রহমত/এস