বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ শুরু মঙ্গলবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
99

আগামীকাল ১ আগস্ট মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০১৭। ‘মাতৃদগ্ধপান টেকসই করতে আসুন ঐক্যবদ্ধ হই’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং প্রতিষ্ঠানের (বিবিএফ) যৌথ উদ্যোগে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের কর্মসূচি পালন করবে।

আজ সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ’ পালন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল হক খান।

প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, শিশুকে কমপক্ষে ৬ মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ান দেশে এমন মায়ের হার ৫৫ শতাংশ। এ হার বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো হলেও আমাদের লক্ষ্য শতভাগে উন্নীত করা। এজন্য তিনি ময়েদের ‍কৌটার দুধ না খাইয়ে বুকের দুধ খাওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে এবার ১ আগস্ট দৈনিক সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে। এছাড়া মোবাইল ফোনে এ দিবসের বার্তা পাঠানো হবে। ওইদিন বেলা ১১টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে মেলারও আয়োজন করা হবে।

জাহিদ মালেক বলেন, বর্তমানে শিশু মুত্যুর হার অনেক কমে আসলেও এখনও পুষ্টিহীনতার বেশ কিছু সংখ্যক শিশুর মৃত্যু হয়। এসব শিশু পুষ্ঠিহীনতার অন্যতম কারণ বুকের দুধ না খাওয়ানো।

মায়েদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বুকের দুধ না খাওয়ালে শিশু যেমন অপুষ্টিতে ভোগে মায়েরাও নানান অসুখে ভোগেন। যেমন যেসব মায়েরা বুকের দুখ খাওয়ান না তাদের স্তন ক্যান্সার, জরায়ু মুখ ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সুতরাং নবজাতককে মায়েদের বেশি বেশি বুকের দুখ খাওয়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠনগুলোতে ‘ব্রেস্ট ফিডিং’ কর্নার রাখার আহ্বান জানানোর পাশাপাশির বেসরকারি খাতে মাতৃকালীন ছুটির মেয়াদ ৬ মাস বস্তবায়ন করারও আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ- ২০১৭ এর লক্ষ্য হচ্ছে সবাইকে নতুন টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা সর্ম্পকে অবহিত করা। এছাড়া কীভাবে শিশুকে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধ এবং ৬ মাসের পরে ঘরে তৈরি পরিপূরক খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ত্বরান্বিত করা যায় সে বিষয়েও জানানো। শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো এবং শিশুর পুষ্টি ও খাবারকে টেকসই উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্তির জন্য সব পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম দ্রুত জোরদার করার বিষয়েও লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে।

অর্থসূচক/আজম