খেলাপি ঋণের ৬৬ শতাংশ ১০ ব্যাংকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
57
টাকা-

অনিয়ম আর দুর্নীতিতে ডুবছে ব্যাংকিং খাত। ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। আর এই খেলাপি ঋণ কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে গুটিকয়েক ব্যাংকে। মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৫২ শতাংশ আছে দেশের ৫ ব্যাংকের কাছে। আর ১০ ব্যাংকের কাছে মোট খেলাপি ঋণের ৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ। বাকি ৪৭ ব্যাংকে খেলাপি রয়েছে মাত্র ৩৪ দশ‌মিক ১ শতাংশ।

আজ সোমবার ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট-২০১৬ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যাতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণের শীর্ষে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকা প্রকাশ করা না হলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খেলাপির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী, বেসিক, জনতা, অগ্রণীসহ কয়েকটি ব্যাংক।

টাকা-

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের মোট খেলাপি ঋণের হার ও পরিমাণ বেড়েছে। ২০১৫ সালে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ছিল ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ। এ সময়ে মোট খেলা‌পি দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ১৭০ কো‌টি টাকা।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, খাতভিত্তিক হিসেবে বা‌ণি‌জ্যিক ব্যাংকে খেলাপির হার সবচেয়ে বেশি। যা মোট খেলা‌পির ২৩ দশ‌মিক ৪ শতাংশ। এছাড়াও তৈ‌রি পোশাক খা‌তে ১২ দশ‌মিক ৬ শতাংশ, বস্ত্র খা‌তে ৮ দশ‌মিক ৪ শতাংশ ও বড় শি‌ল্পে মোট খেলা‌পির ৯ দশ‌মিক ৮ শতাংশ র‌য়ে‌ছে।

প্রতিবেদন প্রকাশকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ব‌লেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে বড় অংকের ঋণগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। খেলাপি ঋণ কমাতে বড় ঋণ কমাতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট মূলত বাংলাদেশের সামগ্রিক আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরে। পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়ন করে থাকে। আর্থিক খাতের গতি প্রকৃতি, স্থিতিশীলতা ও তার প্রভাব এবং তা মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত পদক্ষেপ, সম্পদের মান, ঝূঁকি ব্যবস্থাপনা ও তারল্যের নির্দেশকগুলো এখানে বিশ্লেষণ করা হয়ে থাকে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো উঠে আসে এই প্রতিবেদনে।

অর্থসূচক/মেহেদী/এস