বাজেটের ৩০% বাস্তবায়ন করেছে চসিক

প্রতিনিধি

0
58
CCC Budget
নগর ভবনের কে.বি. আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে চসিকের বাজেট ঘোষণা।

সমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২ হাজার ২২৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দিন। এর মাত্র ২৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে চসিক।

আজ রোববার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে প্রকাশিত সমাপ্ত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

আরও জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে ৬৬২ কোটি ৬৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা ব্যয় করেছে চসিক। এর মধ্যে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ৩০৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং বকেয়া দেনা বাবদ ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

চসিকের সংশোধিত বাজেট প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, অন্যান্য খাতের মধ্যে স্থায়ী সম্পদে ২০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা; উন্নয়নে ২৫৭ কোটি ৬৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ও অন্যান্য খাতে ৩১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

অন্যদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নিজস্ব উৎস থেকে ১ হাজার ১৯৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা আয় লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৬৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছে চসিক। এছাড়া বিভিন্ন দাতা গোষ্ঠীর উন্নয়ন অনুদান বাবদ ২৬২ কোটি ২৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৩৩ কোটি ৯০ লাখ ৫০ হাজারসহ মোট ৬৬২ কোটি ৬৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

CCC Budget
নগর ভবনের কে.বি. আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে চসিকের বাজেট ঘোষণা।

চসিক মেয়র বলেন, বাজেটের প্রত্যাশিত অর্থ আমরা সরকার থেকে পায়নি। তবে আগামী মাসে একনেকে আমাদের কিছু প্রকল্প পাস হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এতে আমরা আমাদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। ফলে চলতি বাজেট সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবো।

সরকারি অনুদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন প্রকল্প তৈরি করে সরকার দিলেই সরকার আমাদের অর্থ দেবে। কিন্ত আমরা ঠিক মতো নতুন প্রকল্প দিতে পারিনি। এবার আমরা বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছি। সরকারের কাছে সেটা পাঠিয়েছি। আশা করছি, সরকারের কাছ থেকে এবার চসিকের চাহিদা মতো অর্থ পাবো। বর্তমানে প্রায় ৭১৮ কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণসহ জাইকার অধীনে ৩২৪ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথে। আগামীতে আরও প্রকল্প নেওয়া হবে।

এদিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চসিকের চসিকের নিজস্ব উৎস থেকে আয় দেখানো হয়েছে ৯৯৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। অন্যান্য দাতা গোষ্ঠীর কাছ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পে আয় দেখানো হয়েছে ১ হাজার ৩৩৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। নিজস্ব উৎসের মধ্যে কর বাবদ ৮০৭ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা; বিভিন্ন ফিস বাবদ ৮৩ কোটি ৭০ লাখ ৫০ হাজার, চসিকের সম্পদের ভাড়া থেকে ৫৪ কোটি ৩৫ টাকা এবং অন্যান্য আয় ও ভর্তুকিতে ৪৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে চসিকের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ৬৩৪ কোটি ৩১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ত্রাণে ২০ কোটি, বকেয়া দেনা ২০৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা, স্থায়ী সম্পদ ২২০ কোটি, উন্নয়ন ১ হাজার ২২৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ও অন্যান্য খাতে ৩৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

চসিকের ব্যয়ের খাতের মধ্যে বেতন ভাতা বাবদ ২৭৫ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা; মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ১০০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা; বিভিন্ন অফিসের ভাড়া ও কর প্রদান বাবদ ২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা; বিদ্যুৎ,জ্বালানী ও পানি বাবদ ৫০ কোটি টাকা; কল্যাণমূলক ব্যয় ৩২ কোটি ২৫ লাখ টাকা; ডাক, তার ও ফোন বিল বাবদ ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা; আতিথেয়তা ও উৎসব আপ্যায়ন বাবদ ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা; বীমা, ভ্রমন ও যাতায়াত বাবদ ২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা; বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও মুদ্রণ বাবদ ১৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা;  ফিস, বৃত্তি ও পেশাগত ব্যয় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা; প্রশিক্ষণ ও বিবিধ ব্যয় বাবদ ১৯ কোটি ৩৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা; ভাণ্ডার ব্যয় বাবদ ১০৫ কোটি টাকা; বকেয়া দেনা ও স্থায়ী সম্পদ বাবদ ব্যয় ৪২৯ কোটি টাকা, উন্নয়ন ও রাজস্ব তহবিল বাবদ ২৭৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা; উন্নয়ন ও এডিপি বাবদ ব্যয় ১ হাজার ২২৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় বাবদ ৩৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে গরীব ও সীমিত আয়ের নাগরিকদের বিশেষ কর সুবিধাসহ সেবার পরিধি বৃদ্ধি, উন্নয়ন কার্যক্রম বৃদ্ধি, সরকারের সিদ্ধান্ত ও জনপ্রত্যাশা সমন্বয় করে বাস্তবধর্মী হোল্ডিং কর সহ কোন খাতে কোন ধরনের কর বৃদ্ধি করা ছাড়াই শতভাগ উন্নয়ন, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নান্দনিক চট্টগ্রাম নগরী প্রতিষ্ঠা, একটি মডেল মেগাসিটি নির্মাণ, বিশ্ব ইতিহাসে চট্টগ্রামকে ঐতিহ্যবাহী নগরী হিসেবে চট্টগ্রামবাসীর সর্বচ্চো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ, পরিচ্ছন্ন , আলোকিত, উন্নত যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বান্ধব, ক্লিন ও গ্রিন সিটির স্বপ্ন বাস্তবায়নকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

অর্থসূচক/দেবব্রত/এমই/