কম খরচে ঘুরে আসুন ভিমরুলির ভাসমান বাজার

অর্থসূচক ডেস্ক

0
105
বাজারে আসছে নৌকা বোঝাই পেয়ার

সারবাঁধা নৌকায় দোকানিরা তাদের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। ক্রেতারও আসনের নৌকায়। কেনা-বেচা চলছে ধুম। প্রথমেই ছবি দেখে মনে হতে পারে এটা ভিয়েতনাম কিংবা থাইল্যান্ডের কোনো ভাসমান বাজার।

কিন্তু না বাজারটি বাংলাদেশেই। উপকূলের জেলা পিরোজপুরের স্বরুপকাঠি থানার ভিমরুলি গ্রামে। এই এলাকায় এমন আরও একটি ভাসমান বাজার আছে, নাম আটঘর কুরিয়ানা।

ভিমরুলির ভাসমান বাজার

আমাদের শহরগুলোতে যেমন রাস্তা থাকে এখানে আছে খাল। খালগুলো সমস্ত এলাকা পেঁচিয়ে রেখেছে। সারা বছরই এ খালগুলোতে পানি থাকে। এই খালেই বসে বাজার। এই খাল বাজারে আসা-যাওয়ার পথ।

বর্ষায় ভিমরুলিতে পেয়ারার হাট বসে। নৌকা ভর্তি পেয়ারা। সবুজ, সবুজাভ হলুদ আর হলুদ রঙের কাঁচাপাকা পেয়ারা। এক নৌকায় ৩/৪ মণ থাকে।  পেয়ারা ছাড়াও এই বাজারে মেলে সবজি, নৌকা, কাঠ, চাল, ডাল সবই। প্রকৃতি ও জীবন এখানে অন্যরকম, বৈচিত্রময়।

ভিমরুলির ভাসমান বাজার

রাজধানীবাসীর জন্য অন্যরকম এই বাজারটি ঘুরে আসার সুযোগ করে দিচ্ছে গ্রীন ট্যুরিজম।মাত্র ৩৫০০ টাকায়১৩ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত এক ট্যুর প্যাকেজ ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আজই ভ্রমণ প্যাকেজটি বুকিং দেওয়ার শেষ দিন। নিশ্চিত করতে চাইলে অগ্রিম ২৫০০ টাকা বিকাশে জমা দিতে হবে আজ মাঝরাতের মধ্যেই।

ইভেন্টটির আয়োজকদের অন্যতম বেণুবর্ণা অধিকারী বলেন, ঢাকার সদরঘাট থেকে বরিশালগামী লঞ্চে চলে যাব বরিশাল শহরে। ৯টার টার বাসে বা শিপে উঠলে পরদিন ভোর ৫টায় বরিশাল পৌঁছে যাব।

ভিমরুলির ভাসমান বাজার

বরিশাল নেমে আমরা হোটেলে উঠবো।ফ্রেশ হয়ে সকালের নাস্তা করে কিছুক্ষণ রেস্ট করে নতুল্লাবাদ থেকে বাসে করে চলে যাব উজিরপুর শাপলা বিলে। সেখানে স্থানীয় কোনো হোটেলে খেয়ে আমরা নৌকা ভাড়া করে বিকেল পর্যন্ত বিলে ঘুরে বরিশাল ফিরে আসব। পরের দিন সকালেই নাস্তা সেরে বাসে করে চলে যাব স্বরূপকাঠি। সময় লাগবে ১.৩০-২ ঘন্টা। বাসে যেতে যেতে দেখবেন চারদিক, স্বরূপকাঠি যাওয়ার রাস্তাটা অসম্ভব সুন্দর।

বাজারে আসছে নৌকা বোঝাই পেয়ারা

স্বরূপকাঠি পৌঁছে নৌকা ঠিক করে নিব। ছাউনি ছাড়া একটা ট্রলারে নিয়ে আমরা ঘুরবো কারণ বেশি বড় ট্রলার/ছাউনি ট্রলারগুলো বেশি ভিতরে ঢুকতে পারে না।

স্বরূপকাঠি থেকেই বরিশাল ফিরে দুপুরে খেয়ে আশে পাশে ঘুরে এসে রাত ৯টায় আবার বাসে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেব।

খরচঃ 

ঢাকা থেকে বরিশাল লঞ্চের ডেক, ট্রলার বা নৌকা ভাড়া, ৬ বেলা খাবার, হোটেলসহ- ৩৫০০ টাকা, বাকি খরচ নিজেদের। কেউ যদি কেবিন নিতে চান এর খরচ আসাযাওয়া বাবদ ২০০০ আলাদা দিতে হবে।

টিপসঃ

*পেয়ারা বাগানে প্রবেশের আগে বৃষ্টির থেকে সুরক্ষার জন্য বড় পলিথিন নিয়ে নিবেন। ব্যাগগুলো সুরক্ষা পাবে।

*সাঁতার না জানলে সেখানের পানিতে নামবেন না কিংবা লাইফ জ্যাকেট নিতে পারেন।

*বাগানে ঢুকে অনুমতি না নিয়ে পেয়ারা ছিঁড়বেন না।

*পেয়ারা বাজারের পেয়ারা দালালদের থেকে না কিনে সরাসরি পেয়ারার মাঠ চাষিদের থেকে নিলে কিছুটা কম দামে পাবেন। মাঠ চাষিরা তাদের বাগানের পেয়ারা নৌকায় ভরে বাজারে বিক্রি করতে আসে।

অবশ্যই পালনীয়ঃ

১. খাবারের প্যাকেট, পলিব্যাগ, অপচনশীল বস্তু খালের পানিতে না ফেলা।

২. বিকট শব্দে গান বাজিয়ে খালের শান্ত পরিবেশকে নষ্ট না করা।

টি