বিচারকদের চাকরি বিধির খসড়া গ্রহণ করেনি আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
49

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালার যে  চূড়ান্ত খসড়া সরকার দিয়েছে তা গ্রহণ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেছেন আদালত যেসব সুপারিশ করেছিল, তার কিছুই খসড়ায় নেই।

আজ রোববার বিচারপতি বলেন, আইনমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর পুরোপুরি ইউটার্ন করেছেন।

এস কে সিনহা বলেন, আমি এবং আমার ব্রাদার জাজরা আজ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুপুর ২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সময় দেব।

High court
হাইকোর্ট।

আইনমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সরকারের যদি কোনো এক্সপার্ট থাকে, আপনারা আসেন, এটা নিয়ে রশি টানাটানি আর নয়। আমরা বৈঠকে বসব।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গত সপ্তাহে ওই গেজেট প্রকাশের জন্য ৩০ জুলাই পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। সে অনুযায়ী রোববার বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারকের আপিল বেঞ্চে ওঠে।

ওই চাকরিবিধির গেজেট জারি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে টানাপড়েনের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বৃহস্পতিবার বিকালে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে চূড়ান্ত খসড়াটি হস্তান্তর করেন।

এর আগে কয়েক দফা সরকারকে সময় দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

মাসদার হোসেন মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে রায় দেয়। ওই রায়ে আপিল বিভাগ বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপন্থি ও বাতিল ঘোষণা করে। একইসঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার একটি খসড়া প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।

সরকারের খসড়াটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার অনুরূপ হওয়ায় তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থি বলে গত ২৮ আগস্ট শুনানিতে জানায় আপিল বিভাগ। ওই খসড়া সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। একইসঙ্গে তা চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন আকারে আদালতে উপস্থাপন করতে বলা হয় আইন মন্ত্রণালয়কে।

এরপর দফায় দফায় সময় দেওয়া হলেও সরকার মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে ওই বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ না করায় গত ৮ ডিসেম্বর দুই সচিবকে তলব করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

টি