দুই কোম্পানির হিসাবকারসাজিঃ নিরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

অর্থসূচক ডেস্ক

0
67
chartered-accountant

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানির বার্ষিক হিসাব নিয়ে কারসাজি হয়েছে। আর এই কারসাজিতে জড়িত ছিল হিসাব নিরীক্ষায় জড়িত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এই কারসাজির প্রমাণ পেয়েছে। বিএসইসি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বিএসইসি আলোচিত দুই নিরীক্ষকের (Chartered Accountant) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ড অব বাংলাদেশকে (আইসিএবি) অনুরোধ জানিয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটি হচ্ছে  এ মতিন অ্যান্ড কোম্পানি ও শফিক, বসাক অ্যান্ড কোম্পানি। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিএসইসির কমিশন বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স ও প্রাইম টেক্সটাইলের হিসাবকারসাজির দায় চেপেছে তাদের নিরীক্ষক এ মতিন অ্যান্ড কোম্পানি ও শফিক বসাক অ্যান্ড কোম্পানির উপরও

নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান এ মতিন অ্যান্ড কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের ২০১৩ সালের হিসাবের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কিছু তথ্য আড়াল করেছে। রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৩ সালে সমাপ্ত অর্থবছরের ব্যালান্সশিট ও ক্যাশফ্লো স্টেটমেন্টে এডভান্স, ডেপোজিট ও রিপেমেন্ট ও ডিসক্লোজার বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্টার্ড অনুযায়ী প্রস্তুত করেনি। এ বিষয়গুলো কোম্পানিটির নিরীক্ষক এ মতিন অ্যান্ড কোম্পানি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কোয়ালিফায়েড অপিনিয়ন (Qualified Opinion) হিসেবে উল্লেখ করেনি।

অন্যদিকে শফিক, বসাক অ্যান্ড কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রাইম টেক্সটাইল স্পিনিং মিলের হিসাবকারসাজিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, প্রাইম টেক্সটাইল ৩০ জুন, ২০১৪ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের আর্থিক প্রতিবেদনে পুনঃমূল্যায়িত সম্পদের বিপরীতে যথাযথ অবচয় না ধরে কম্প্রিহেনসিভ ইনকাম স্টেটমেন্ট তৈরি করেছে। প্রাইম টেক্সটাইল ৬ কোটি ১৬ লাখ টাকার অবচয় কম দেখিয়ে মুনাফা বাড়িয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হয়েছেন। প্রাইম টেক্সটাইলের নিরীক্ষক শফিক, বসাক অ্যান্ড কোম্পানি তার নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কোয়ালিফায়েড অপিনিয়ন হিসেবে অবচয় কম দেখানোর বিষয়টি উল্লেখ করেনি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোঃ সাইফুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও দায়িত্বশীল না হলে কোম্পানিগুলোতে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আইসিএবি চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টদেরকে রেগুলেট করে থাকে। তাই ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব তাদের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।